দিল্লিতে শুরু হলেও টঙ্গীই প্রাণ

 
ইসলাম ও কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী ইসলামের আলো সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণ জানার জন্য আমি অনেক গবেষণা করেছি, কিন্তু একটি উত্তর ছাড়া আমি আর কোনো উত্তর পাইনি। মহানবী (স) আরবের মরুভূমিতে একটি প্রদীপ জ্বেলে ছিলেন, আরবের লু-হাওয়া এটা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে
 
বর্তমানে সারা পৃথিবীতে যে তাবলিগ জামাতের যে দাওয়াতি কার্যক্রম প্রচলিত আছে, তার সূচনা হয় দিল্লির নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের কাছে এক অখ্যাত গ্রামে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, তাবলিগের এই কাজ আজ পৃথিবীর সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কল্যাণে মানুষ পূর্ণভাবে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এটাই তাবলিগের শিক্ষা। আল্লাহ বলেন, ‘উদখুলু ফিস্ সিলমি কাফ্ফা’ অর্থাত্ তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ কর (আল কুরআন)।
 
আমার প্রথম কাকরাইল মসজিদে যাওয়ার ইতিহাস একটু ব্যতিক্রমধর্মী। মরহুম অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামের (জাতীয় অধ্যাপক নন) বাড়ী নোয়াখালীতে। তিনি মেডিসিনে এফ.সি.পিএস পার্ট-১ পাস করেন সম্ভবত ১৯৬৮ সালে, কিন্তু পার্ট-২ তার পাস করা হয়নি। পরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে জুরিস প্রুডেন্সের (Juris Prudence) অধ্যাপক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সামাজিক ধার্মিক ও সমাজ সচেতন ছিলেন। তিনি একসময় ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি। আমাকে কাকরাইল নেওয়ার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত অনুরাগি ছিলেন। তার একটি কথা তাবলিগে যাওয়ার জন্য আমাকে চম্বুকের মত কাজ করে। কথাটি ছিল এই, দিল্লিতে একজন নিরক্ষর লোককে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করা হয়। ঐ ভদ্রলোক খুব সাদা-সিদে ছিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে শুধু একটা কথা বললেন, কেমন করে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে হয় তা আমার জানা নেই। এই বলে তিনি কান্না শুরু করলেন, সাথে সাথে কান্নায় জড়িয়ে পড়লো সবাই। বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, এই সাধারণ কথায় কেমন করে এতো সাড়া জাগলো, তার কারণ কি আপনারা বুঝেছেন?
 
এটাই ছিল আমাদের নবীর (স)  কথা। কারণ তিনিও ছিলেন নিরক্ষর। যখন হেরা গুহায় প্রথম কুরআনের বাণী অবতীর্ণ হয়, তখন আল্লাহর বাণীবাহক হযরত জিব্রাইল (আ) বলেছিলেন, ইক্বরা। অর্থাত্ পড়। মহানবীর (স) জবাব ছিল- মা আনা বিক্বরি। মানে আমি তো পড়তে জানি না। একেবারে সাদা-সিদে জবাব। কাজেই মহা নবীর (স) কথার সাথে নিরক্ষর ব্যক্তির কথা মিলে গেছে, তাই লোক এতো সাড়া দিয়েছে। মোহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম-এর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয় কয়েক বার। এটা করেন জিব্রাইল (আ) যাতে তার ভিতরে কোনো কলুষতা না জ্বলতে পারে। এটা ঐতিহাসিক সত্য। ইসলামের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে এতো বেশি বই লেখা হয়েছে যে তার ইয়ত্তা নেই। কেবল মহানবীর (স) চরিত্র হরণ করার জন্য লেখা হয়েছে সহস্রাধিক বই (নাউজুবিল্লাহ)। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, এতো সমালোচনার মধ্যেও ইসলাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা একটা আশ্চর্য জনক ঘটনা। এটা আমাকে আবার উইলিয়াম মোরের (যিনি একজন ঐতিহাসিক) কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি প্রায় দুইশ বছর আগে বলেছিলেন যে ইসলামের নবী ও কুরআনকে আমি স্বীকার করি না। কিন্তু এই কথা আমাকে অবাক করে,    ইসলাম ও কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী ইসলামের আলো সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণ জানার জন্য আমি  অনেক গবেষণা করেছি, কিন্তু একটি উত্তর ছাড়া আমি আর কোনো উত্তর পাইনি। মহানবী (স) আরবের মরুভূমিতে একটি প্রদীপ জ্বেলে ছিলেন, আরবের লু-হাওয়া এটা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে।
 
তারই ধারাবাহিকতায় তাবলিগ জামাতের মুসল্লিগণ দীন ইসলামের দাওয়াতের কাজে মেহনত করে চলেছেন। এই জামাতের কার্যক্রম শুরু হয় ভারতের মেওয়াত অঞ্চলে।  বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। তন্মধ্যে বাংলাদেশের ইজতেমাই সর্ববৃহত্ ও অধিক তাত্পর্যপূর্ণ। এবার ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে টঙ্গিতে। আল্লাহর    অসীম কৃপা ও বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের ঐকান্তিক ভালবাসায় প্রতিবছরই এই ইজতেমা অনুষ্ঠানে এক স্বর্গীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না বলে আমরা আশা করি।
 
এই মহাতাবলিগ আন্দোলন আরও সামনে এগিয়ে যাক। আজ তাবলিগের মুরব্বি ও ভাইদের কাছে একটা অনুরোধ, মুসলিম ভাইদের কাছে যাবেন, সাথে সাথে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কথা ভুলে যাবেন না। আপনারা ‘আমর বিল মারুফ’ সাথে সাথে ‘নাহি আনিল মুনকার’ সম্বন্ধেও সচেতন থাকবেন।
 
লেখক: সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
 
ইজতেমা ময়দানের জরুরি ফোন নম্বরসমূহ:
 
জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুম-১: ৯৮১৩৪০১,
 
জেলা প্রশাসন কন্ট্রোল রুম-২: ৯৮১৩৪০২
 
বিদেশী মেহমানদের তাঁবু: ৯৮১৬৩৬৮
 
ডিজি এফ আই কন্ট্রোল রুম: ৯৮১৬৩৩০
 
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুম: ৯৮১৬৩৬৯
 
এনএসআই কন্ট্রোল রুম: ৯৮১৭৫১৩
 
পুলিশ কন্ট্রোল রুম: ৯৮১৩৪০৩
 
তিতাস গ্যাস: ৯৮১৬৩৭৮
 
পুলিশ সাব কন্ট্রোল রুম-১: ৯৮১৩৪০৪
 
বিদ্যুত্ বিভাগ: ৯৮১৬৩৭৯
 
পুলিশ সাব কন্ট্রোল রুম-২: ৯৮১৩৪০৫
 
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল: ৯৮১৫১১৫
 
র্যাব কন্ট্রোল রুম (সিসি টিভি): ৯৮১৫১১১
 
গোডাউন: ৯৮১৬৩৭৫
 
র্যাব কন্ট্রোল রুম-১: ৯৮১৫১১২
 
র্যাব কন্ট্রোল রুম-২: ৯৮১৫১১৩
 
পাম্প হাউজ-১: ৯৮১৫১১৬
 
র্যাব কন্ট্রোল রুম-৩: ৯৮১৫১১৪
 
পাম্প হাউজ-২: ৯৮১৫১১৭
 
স্বাস্থ্য বিভাগ কন্ট্রোল রুম: ৯৮১৩৪০৬
 
পাম্প হাউজ-৩: ৯৮১৫১১৮
 
স্বাস্থ্য বিভাগ: ৯৮১৭৫১৪
 
পাম্প হাউজ-৪: ৯৮১৬৩৮০
 
স্বাস্থ্য বিভাগ: ৯৮১৭৫১৫
 
পাম্প হাউজ-৫: ৯৮১৬৩৮১
 
স্বাস্থ্য বিভাগ: ৯৮১৭৫১৬
 
পাম্প হাউজ-৬: ৯৮১৬৩৭৬
 
টঙ্গী পৌরসভা কন্ট্রোল রুম: ৯৮১৩৪০৭
 
পাম্প হাউজ-৭: ৯৮১৭৫১২
 
তথ্য কেন্দ্র ইজতেমা কর্তৃপক্ষ-১
৯৮১৬৩৭০
 
তথ্য কেন্দ্র ইজতেমা কর্তৃপক্ষ-২
৯৮১৬৩৭১
 
তথ্য কেন্দ্র ইজতেমা কর্তৃপক্ষ-৩
৯৮১৬৩৭২
 
তথ্য কেন্দ্র ইজতেমা কর্তৃপক্ষ-৪
৯৮১৬৩৭৩