পরিবেশবান্ধব নয় এমন কোনো প্রকল্প সরকার হাতে নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। ফ্রেশ চ্যানেল আই প্রকৃতি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। আর রাজধানীকে সবুজ করে গড়ে তুলতে চ্যানেল আইসহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক। মেলায় যোগ দেয়া পরিবেশবিদ, পরিবেশপ্রেমী এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই প্রকৃতি রক্ষায় হাতে হাত রেখে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে বসে ৭ম বারের মতো ফ্রেশ চ্যানেল আই প্রকৃতি মেলা। বেলা ১১টায় খাঁচায় বন্দী পাখীকে নিজস্ব পরিবেশে ছেড়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে জীববৈচিত্র রক্ষার তাগিদ দেন অতিথিরা। উদ্বোধনী বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল চ্যানেল আই ‘প্রকৃতি মেলা’র সঙ্গে জড়িত সবাইকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি নিজেদের উদ্যোগে পরিবেশ বাঁচাতে কাজ করছে চ্যানেল আই। বর্তমান সরকার পরিবেশ বান্ধব সরকার। পরিবেশ রক্ষা করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার বলধা গার্ডেন ও রমনা পার্ক সংরক্ষণ করে আগের আগের রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক পরিবেশ রক্ষায় চ্যানেল আই এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়ার কথা। এরই মধ্যে উত্তরায় ৩২ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে জানিয়ে মেয়র আরো বলেন, গুলশান-বনানীসহ পুরো ঢাকায় আরো গাছ লাগানো হবে।
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, প্রকৃতি মেলাকে ঘিরে জেলা পর্যায়ে র্যালি হয়েছে, অনেক জায়গায় ছোট ছোট আয়োজনে মেলা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আশার কথা হলো মানুষ নিজে থেকেই আজ প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসছে। কারণ- সবাই বুঝে ফেলেছেন, প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচাবো।
যার উদ্যোগে টানা সপ্তমবারের মতো এই আয়োজন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, আমাদের সঙ্গে প্রকৃতির যে সম্পর্ক রয়েছে সেটিই প্রতিবছর মেলায় তুলে ধরা হয়। প্রকৃতি মেলাকে ঢাকা শহরে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতির মধ্যে রাখা ও সচেতনতা বাড়ানোর একটি প্রয়াস হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সবাইকে প্রকৃতি রক্ষার এই আন্দোলনে হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইমপ্রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ মজুমদার এবং পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ মামুনও প্রকৃতি ও পরিবেশ বাঁচাতে সকলকে যার যার জায়গা থেকে কাজ করা আহ্বান জানান। উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা জানান, মেঘনা গ্রুপের উপদেষ্টা মুরতজা হোসেন মুন্সী, সহকারী মহাব্যবস্থাপক কুমার ফিলিপ বড়–য়া, নুর ইকো ব্রিক্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাজাহান সিরাজ, আইইউসিএন এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইশতিয়াক উদ্দিন, প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুস আলী, বন সংরক্ষক অসিত রঞ্জন পাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, পরিবেশ বিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি পার্কের প্রধান অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন এবং পরিবেশ বিজ্ঞানী ও প্রকৃতি প্রেমিরা। মেলার উদ্বোধনের পাশাপাশি চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী ও ঢাকা উত্তরের মেয়র।
পরিবেশ রক্ষার এ আন্দোলনে একাত্ম হয়ে এবারো মেলায় সহযোগী ছিলো মেঘনা গ্রুপ এবং নূর ইকো ব্রিকস। মেলা উপলক্ষে শিশুদের প্রকৃতি বিষয়ক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন ছিলো। পরিবেশ বিষয়ক প্রায় অর্ধশত স্টলে ছিলো জমজমাট ভিড়। সেভ দ্যা ন্যাচার পদক তুলে দেয়া হয় অক্সিজেন ব্যাংক হিসেবে পরিচিত গ্রিন সেভার্সকে।
প্রায় হারিয়ে যেতে বসা আবহমান বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় মেলার বিভিন্ন পর্বে। লোকগান, গম্ভীরা ও পট গানে প্রকৃতি বন্দনা ও এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করেন প্রখ্যাত শিল্পীরা। বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর আর্তনাদ ও তাদের রক্ষার আহ্বান জানানো হয়ে বিশেষ ক্যারেক্টার শো’র মাধ্যমে।
ইত্তেফাক/এএম।