তিন দিনব্যাপী বিচ কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, কুয়াকাটাকে রক্ষা ও বিশ্বের কাছে আকর্ষণীয় হিসাবে গড়ে তুলতে জনসম্পৃক্ত মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে।
দুপুরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিচ কার্নিভাল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, কুয়াকাটার পর্যটনকে কেন্দ্র করে এখানে বিমান বন্দর জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।
আগামী দুই বছরে কুয়াকাটার জন্য কাজ করার পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকার আর দু বছর থাকছে। এই দুটি বছরের মধ্যে এই মেয়াদে যে অঙ্গীকার পূরণে কাজ করে যাচ্ছি। এই মেয়াদে কুয়াকাটাকে একটা আকর্ষণীয় স্থান হিসাবে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করা এবং সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা আমাদের একটা উদ্দেশ্য রয়েছে। সে দিক দিয়ে কুয়াকাটার জন্য কী করা হবে আপনাদের সাথে কথাবার্তা বলে ঠিক করা হবে।
তিনি বলেন, আগামী দুবছরে আমাদের বিচে অন্য একটি চিত্র দেখতে পারব। দেখেতে পাব এখানে আসাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। দেখতে পাব ব্যক্তি মালিকানার খাত বিশেষ করে নির্মাণ কাজে অনেক অগ্রগতি হবে। সেই ভবিষতের স্বপ্ন আমি দেখছি। আমি শুধু দেখছি না, আমি সেটা উপভোগ করতেও পাব।
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ও পায়রা বন্দর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবিস্কার উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী বলেন, এটাকে (কুয়াকাটা) দেশ জাতির কাছে পরিচিত করার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর।
কুয়াকাটাকে আকর্ষণীয় করতে পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু শুধু কার্নিভাল করে নয়, সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেয়া যায় সেটা আগে হয়নি। কক্সবাজারের মত এখানে এখনো ভিড় হয়নি। এখানে এই মুহূর্তে মাস্টার প্ল্যানে হাত দেন, তাহলে খুব ভাল হবে। কারণ কক্সবাজারে নতুন একটা মাস্টার প্ল্যান করা খুবই কষ্টকর। ভাঙাভাঙি করতে হয়, খরচ করতে হয়। এখানে কাজটা সহজ হবে বলে আমার মনে হয়।
উপস্থিত স্থানীয় সরকার সরচিব আব্দুল মালেকের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণায়কে বলবো তারা যেন মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী কাজ শুর করে। মাস্টার প্ল্যান শুরু করার আগে কুয়াকাটায় এসে বরিশাল এবং পটুয়াখালীর লোকজনদের ডেকে তাদের মতামত নিতে সেমিনারের আয়োজন করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তবে কাজটি তাড়াতাড়ি শুরু করতে হবে বলেও মত দেন মুহিত।
কুয়াকাটার উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা জরুরি মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, যাতে এখানে লোকজন খুব সহজে আসতে পারে। এ রকম অন্যান্য জায়গাতেও একই অবস্থা। উন্নয়ন কিছু করতে গেলে সেখানে মালপত্র, নির্মাণ সামগ্র্রী নিয়ে যেতে হয়।
সড়ক, নদী ও রেলপথেও সে যোগাযোগ হতে পারে জানিয়ে মুহিত বলেন, এখানে রেলপথ করা বেশ মুশকিল। একটি মাত্র জেলা যেখানে রেলপথ নেই। তবে এই দুর্দশা বোধ হয় বেশি দিন থাকছে না। অতিসত্তর আমরা রেলপথ পেতে যাচ্ছি।
দুই বছরে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে পৌঁছাবে
আগামী দুবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে যাবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আর এই প্রবৃদ্ধি তার হাত ধরেই সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকারের আগামী দুই বছরকে গোল্ডেন যুগ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বৃত্ত থেকে পেরিয়ে ৭ শতাংশের ঊর্ধে গিয়েছি। আমাদের স্বপ্ন পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশে পৌঁছবো, এটা একটা ভাল স্বপ্ন, সম্ভবপর স্বপ্ন বলে আমার মনে হয়।
আমার মনে হয় আমার হাতে অন্তত ৮ শতাংশে পৌঁছবো, আমার হাতে মানে আগামী দুই বছর। ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে পৌঁছানো মানে হলে সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন।
সরকারের নীতিমালায় কেউ পিছিয়ে থাকতে পারে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। দেশে গরীবের সংখ্যা এখন ২২ শতাংশ, সব থেকে গরিবের সংখ্যা দ্রুত হারে কমিয়ে আসেছ। বৈষম্য নিরসন বাংলাদেশ একটা অনন্য দেশ। অতিদারিদ্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি। আমাদের দেশে দারিদ্রের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি। সাড়ে চার বছরের মধ্যে সবাইকে দারিদ্র সীমার মধ্যে বের করে নিতে হবে। চ্যালেঞ্জটা অনেক বড় হলেও দেশের মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান। এজন্য পড়ালেখা না জানলেও কোনো প্রযুক্তি হাতে তুলে দিলে তা গ্রহণ করে নেয়। আমাদের কৃষক, চাষী, শ্রমিক অত্যন্ত দক্ষ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা আমাদের কৃতিত্ব; বলেন অর্থমন্ত্রী।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, গত তিন বছর ধরে আমরা কুয়াকাটায় ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের চেষ্টা করছি। কিন্তু সাগরের ভাঙন এবং উচ্চ আদালতে রিটের কারণে হয়নি। তারপরও ভাঙন ঠেকাতে বেড়ি বাঁধ করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, কুয়াকাটা বিশ্বের দরবারে পরিচিত করে তুলতে পারলে এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা শক্তিশালী হবে। পায়রা বন্দরের কাছে বিমানবন্দর করতে চিঠি লেখা হয়েছে।
বেসরকারী বিমান ও পর্যটন সচিব এস এম গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, জাতীয় পার্টি-জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, মাহবুবুর রহমান এমপি, আ খ ম জাহাঙ্গীর এমপি, শওকত হাসানুর রহমান রিমন এমপি, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান অপরুপ চৌধুরী, পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শেখ মারুফ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এর আগে সকালে বর্ণাড়্য শোভাযাত্রার বের করা হয়।
ইত্তেফাক/ইউবি