ওয়েলিংটনে ম্যাচের চতুর্থ দিনটা অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই কেটেছে ইমরুল কায়েসের। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস শেষ হতেই বদলি উইকেটকিপার হিসেবে বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী হয়েছেন তিনি। উইকেটের পেছনে পাঁচটি ক্যাচ নিয়ে গড়েছেন ইতিহাস। দিনের শেষভাগে সেই মধুর অভিজ্ঞতা কিছুটা ফিকে হয়ে গেছে ইনজুরির কারণে। উরুর পেশীতে টান পড়ায় স্ট্রেচারে শুয়ে মাঠ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হলেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের মিডিয়া ম্যানেজার বিডিনিউজকে জানিয়েছেন, ইমরুলের চোট বাম উরুতে। দিনের খেলা শেষেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এক্সরেতে কিছু ধরা পড়েনি। পরে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করানো হবে চোটের অবস্থা বোঝার জন্য।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ইনজুরির কারণে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার বদলি উইকেটকিপারের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করতে হয় ইমরুলকে। এর আগে ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুশফিকের ইনজুরিতেই প্রায় ১৩০ ওভার কিপিং করেছিলেন তিনি।
অনভ্যস্ত ভূমিকায় গতকাল বেসিন রিজার্ভে দেড়শ’ ওভার কিপিংয়ের পরও বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ব্যাটিংয়ে আসেন এই ওপেনার। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু ইনিংসের ১৩তম ওভারে দ্রুত রান নিতে গিয়ে চোটে পড়েন ইমরুল। ঝাঁপিয়ে পড়ে রান আউট ঠেকালেও আর মাটি থেকে উঠে দাঁড়াতে পারেননি। পরে মাঠ থেকে তাকে বাইরে নেওয়া হয় স্ট্রেচারে করে।
টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বদলি উইকেটকিপার পাঁচটি ক্যাচ নিলেন। বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ডও এটি। ইমরুল ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে শুধু মুশফিকেরই এই কৃতিত্ব রয়েছে। ২০১০ সালে মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে ও ২০১৩ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুইবার ইনিংসে পাঁচটি ক্যাচ নিয়েছিলেন তিনি।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে জিত রাভালের ক্যাচ নিয়ে ইমরুলের শুরু। পরে তাসকিনের বলে নিয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ক্যাচ। গতকাল চতুর্থ দিনে শুভাশীষ রায়ের বলে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের এবং মাহমুদউল্লাহর বলে বিজে ওয়াটলিংয়ের ক্যাচ নেন তিনি। এরপর একই দিনে কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে ওয়েগনারের ক্যাচ নিয়েই বিশ্ব রেকর্ড স্পর্শ করেন ইমরুল।
ইত্তেফাক/এএন