বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার। বর্তমান বাজার মূল্য ৬ কোটি টাকা। গতকাল রবিবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি তদন্ত দল বারিধারার কূটনীতি পাড়া থেকে একটি রেঞ্জ রোভার উদ্ধার করেছে। বাড়ি নং-০১, রোড নং-১১ তে অভিযান চালিয়ে সাদা রঙের রেঞ্জ রোভারটি পাওয়া গেছে। এটি ২০১৪ মডেলের জিপ গাড়ি। হলুদ নাম্বার প্লেট বিশিষ্ট নং-দ ৬৮-০১৬। গাড়িটি কোনো কূটনীতিক ব্যবহার করছেন না, এটি একজন ব্যবসায়ী অবৈধভাবে ব্যবহার করছেন।
জানা যায়, ঢাকাস্থ মিসরীয় দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জত ২০১৬ সালে গাড়িটি বাংলাদেশে এনেছেন। পরে গাড়িটি ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের ইন্ট্রাকো গ্রুপ ও হোটেল আগ্রাবাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ আলীর কাছে বিক্রি করে দেন। এটি ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী মিসেস হুদা আলী সেলিম এক বছর ধরে ব্যবহার করে আসছিলেন। গাড়িটি অবৈধভাবে শুল্ক কর পরিশোধ না করেই বিক্রি করা হয়েছে। কোনো কূটনৈতিক গাড়ি বিক্রি করা হলে নতুন করে সেটার পুরো কর দিতে হয়। কূটনৈতিক নাম্বার প্লেট পরিবর্তন করতে হয়। গাড়ির স্টািকারও পাল্টাতে হয়। এই গাড়ি সাধারণত পুলিশ ধরে না। এই গাড়িতে চড়ে যখন ইচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়া যায়। গাড়ি চেক করা হয় না। এসব গাড়ি সাধারণ মানুষের হাতে আসলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
এই হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্থায়ী আদেশ নং-১০০/২০০০/শুল্ক, তারিখ ২৫ জুলাই ২০০-এর বিধি ৩ (সি) ও (ডি) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকগণ তাদের কার্যকাল শেষ হওয়ার পূর্বে তাদের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা সব গাড়ি বিক্রি করতে হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর আবেদন করতে হয়। এই গাড়ি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি।
স্থায়ী আদেশ নং-১০০/২০০০ লল্ক-এর ৩ (বি) অনুযায়ী, কূটনীতিক/প্রিভিলেজড পারসন তাদের ব্যবহার্য পণ্যসমূহের মধ্যে কেবল শুল্কমুক্তভাবে আনা গাড়িগুলো হস্তান্তর করতে পারবেন। যা এক্ষেত্রে করা হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাড়িটির আমদানিকারক মিসরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জত কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন; কিন্তু প্রচলিত বিধিমোতাবেক গাড়িটি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আইনানুগ নিষ্পত্তি হয়নি।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বিলাসবহুল গাড়ি ব্রিটেনের রানী এবং আরবের শেখরা সাধারণত ব্যবহার করে থাকেন। স্থায়ী আদেশ নং-১০০/২০০০/শুল্ক-এর ৭ (এ) অনুযায়ী শুল্কমুক্ত সুবিধায় কূটনীতিক কর্তৃক আমদানিকৃত গাড়ির অনুমোদন ছাড়া হস্তান্তর সংঘটিত হলে তা সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্তযোগ্য। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত অপরাধ দি কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯-এর ধারা ১৫৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, কূটনীতিকদের গাড়ি হস্তান্তরের নিয়ম এই রেঞ্জ রোভারের ক্ষেত্রে মানা হয়নি। তাই এটিকে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে এমন গাড়ি আর আছে কীনা, কূটনীতিকদের আনা গাড়িগুলো কোথায়- এসব বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।
এর আগে দেশে এমন আরো ৪টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। উত্তর কোরীয় ফাস্ট সেক্রেটারির নামে একটি গাড়ি, ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টরের নামে একটি, আইএলও-এর দুই কর্মকর্তার নামে দুইটি গাড়ি আনা হয়। এসব গাড়ি বিভিন্ন সময় জব্দ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন