কক্সবাজারের উখিয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাহাড় কাটার ধুম চলছে। পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত মাটি পাচারকারী চক্রটি সম্প্রতি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি এলাকা ঘুরে জানা যায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পরিবার পাহাড় কেটে বনভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন থেকে মাটি পাচার করে অবৈধ টাকা আয় করছে। তাছাড়া, উখিয়া-টেকনাফ সড়ক সংলগ্ন বালুখালী টিভি রিলে কেন্দ্রের বিপরীতে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করা হচ্ছে কিছুদিন ধরে।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় পাহাড় কাটা, অবৈধ বালি উত্তোলন ও বনভূমি জবরদখল প্রতিরোধে বনকর্মীদের আরো স্বচ্ছতার সহিত দায়িত্বপালনের আহ্বান জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন বলেন, পাহাড় কাটা প্রতিরোধ করতে হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদেরকে বনকর্মীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা করতে হবে।
সমন্বয় সভায় উপজেলা সদর বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বনবিভাগের লোকবল স্বল্পতাকে পুঁজি করে ও মান্ধাতা আমলের বন আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে একদল সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী মাটি পাচারকারী চক্র তাদের নিজস্ব ডাম্পার গাড়ী ব্যবহার করে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করছে। বনকর্মীরা পাহাড় কাটায় বাধা দিতে গেলে তাদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পাহাড় কাটা, বনভূমি দখলসহ বন সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগে উখিয়ার ৮টি বনবিটে গত ১ বছরে প্রায় শতাধিক মামলা রুজু করা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক লোককে।
সদর বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, পাহাড় কেটে শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্মিত কুতুপালং বস্তির প্রায় ৩ শতাধিক ঝুপড়ি উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয় অবৈধ সুবিধাভোগী কতিপয় দুর্বৃত্তকে লেলিয়ে দেওয়া রোহিঙ্গারা বনকর্মীদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে ৫ জন বনকর্মী আহত হয়েছে।
উখিয়া থানা পুলিশ বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে মাটি পাচারে ব্যবহূত গাড়ী আটক করলেও অজ্ঞাত কারণে পরে তা ধামাচাপা দেয়। পাহাড় কাটা প্রতিরোধে আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম হোসেন জানান, সোনাইছড়ি এলাকায় যে পাহাড়টি কর্তন করা হচ্ছে সেটি তাদের নিজস্ব জোত-জমি দাবি করায় তাকে কাগজপত্র উপস্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বালুখালী বনবিট কর্মকর্তা মোবারক আলী জানান, তিনি বিষয়টি জানতেন না। ঘটনাস্থল পরির্দশন করে নিষেধ করে দেওয়ার পর থেকে মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।
দোছড়ি বনবিট কর্মকর্তা গজনবী জানান, তার এলাকায় পাহাড় কাটার ছবিসহ স্থানীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্দেশ দিয়েছে।
ইনানীতে প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়নে কর্মরত এনজিও সংস্থা শেড পরিচালিত ইনানী বনরক্ষা সহায়ক কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, নির্বিচারে পাহাড় কর্তন, বন সম্পদ ধ্বংস ও বনভূমি দখলের ফলে অভয়ারণ্য লোকালয়ে পরিণত হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য তাদের আবাসস্থল হারিয়ে ফেলছে। পরিবেশবাদী সচেতন মহলের দাবি, দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে মাটি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/এএন