ইউরোপে জঙ্গিবাদবিরোধী আইনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য: অ্যামনেস্টি

ইউরোপজুড়ে নতুন জঙ্গিবাদবিরোধী আইনগুলোতে মুসলিম ও শরণার্থীদের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে, এবং তাদের মধ্যে ভয় ও বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার অ্যামনেস্টির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
 
 
মানবাধিকার সংস্থাটি বিগত ২ বছরে ইউরোপের ১৪টি দেশে নজরদারি ক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত আইনের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এই সময়ে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও জার্মানিতে জঙ্গি হামলায় ২৮০ জন নিহত হয়েছে। এই হামলাগুলোর বেশিরভাগের দায় নিয়েছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। আর এই আক্রমণের ফলাফল হিসেবে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী ও মুসলিম বিরোধী জনমত তৈরি হয়েছে এবং ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। আসন্ন ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড ও জার্মানির জাতীয় নির্বাচনে এই বিষয়টি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
 
অ্যামনেস্টির কাউন্টার টেররিজম বিশেষজ্ঞ ও প্রতিবেদনের লেখক জুলিয়া হল বলেন, ইউরোপিয় ইউনিয়ন অঞ্চলজুড়ে আমরা দেখছি মুসলিম ও অভিবাসীদের জঙ্গির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আর এই ছাচীকরণ এই সম্প্রদায়গুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং তাদের মধ্যে ভয় ও বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হয়েছে।
  
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্যারিসে ২০১৫ সালের নৃশংস হামলার পরে ফ্রান্সে কঠোর নজরদারি, অনুসন্ধান, ডিটেনশন ও গ্রেফতারের মত বিষয়গুলো এই সম্প্রদায়গুলোর নিরীহ কর্মী ও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। এই সময় ৩৮০ জন কিশোরকেও বিচারের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
 
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, কারফিউ, পুলিশ চেকইন ও যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই তাদের উপর নজরদারিতে মুক্ত ও কল্যাণমূলক সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই ব্যক্তিরা জানেও না তারা কি জন্য অভিযুক্ত।
 
হল ইউরোপিয় সরকারগুলোর সমালোচনা বলেন, সরকার একজন ব্যক্তিকে বলছে- ‘তোমাকে সন্দেহভাজন মনে হচ্ছে। তাই এখন থেকে তোমাকে নজরদারির মধ্যে রাখবো, কারণ আমি মনে করি তুমি কোনো অপরাধ করতে পারো। রয়টার্স।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ