বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি আমাদের আস্থা আছে। তবে নতুন নির্বাচন কমিশন ( ইসি) গঠনে রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। সার্চ কমিটি করার ক্ষেত্রে আবার যদি আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক, তাদের দোসর কোন ব্যক্তিকে প্রধান করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়, তাহলে জনগণ মেনে নেবে না। আর বিএনপি যেহেতু জনগণের অধিকার নিয়ে কাজ করে সুতরাং এটি বিএনপিও মেনে নেবে না। এর বিরুদ্ধে যতোরকম ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বিএনপি নিবে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনমতের বাইরে গিয়ে কিছু করলে জনগণ তা মানবে না।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শ্যামা ওবায়েদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, হারুন অর রশিদ, সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।
আলাল বলেন, সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সকলের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য খালেদা জিয়াই প্রথম রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য নেতারা রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত নিয়ে একেক জন একেক রকম কথা বলছেন। তাদের কথার মধ্যেই অস্থিরতা রয়েছে।
'কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি নেতারা হিন্দি সিরিয়াল দেখে’- সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্যের সমালোচনা করে আলাল বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব একজন ভাষাবিদ। সুন্দর সুন্দর করে কথা বলেন।এর আগে তিনি বঙ্গভবনের গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়ার কথা বলছিলেন। আর এখন বলছেন, বিএনপি নেতারা হিন্দি সিরিয়াল দেখেন। এর থেকে আমরা ধারণা করতে পারি যে, তিনি ওইসব নেতার সঙ্গে বসে সিরিয়াল দেখেন। না হলে এটা অসাড় বক্তব্য, বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার রায়ে বিএনপি আপাতত সন্তুষ্ট বলে জানিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, উচ্চ আদালতে রায় এবং রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার যে বিষয়টি আছে সেখানে কী হবে তা নিয়ে তার শঙ্কা আছে। আলাল বলেন, নারায়ণগঞ্জের যারা এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তারা স্বস্তি পেয়েছেন। কিন্তু দেশে কোনো আইন নেই। কারণ আইনের শাসন যেটা আছে তার মধ্যে আইনকে যেভাবে যখন খুশি মনমতো সাজানো। আর শাসন যেটা আছে সেটা হচ্ছে বিএনপিসহ প্রতিবাদী কণ্ঠকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া।
ইত্তেফাক/এমআই