উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের কাছে মোবাইল ও সিম বিক্রির অভিযোগ

প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে

 রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

উখিয়ার সরকারি বনভূমিতে অস্থায়ীভাবে আশ্রিত প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা পরিবারে বসবাস করছে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা। স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের অনুমান, প্রতিটি পরিবারে গড়ে ২টি করে মোবাইল ফোন ও সিম ব্যবহার করা হলে বাইশটি ক্যাম্পে প্রায় ১৬ লাখ মোবাইল নম্বর ব্যবহূত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সংগৃহীত এসব মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার অনেকে আরাকানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে, ফলে এই মাধ্যমে সহজে গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ। এতে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের ব্যবহূত মোবাইলগুলো যাচাই-বাছাই করে সিম সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে।

মোবাইল সিম ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহারের নীতিমালার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া সদরের আমিন সার্ভিস পয়েন্টের মালিক মো. নুরুল আমিন জানান, এনআইডি নম্বর ও ফিঙ্গার প্রিন্ট ছাড়া সিম বিক্রি করা নিষেধ। রোহিঙ্গারা এত সিম কিভাবে সংগ্রহ করল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির নিয়োগকৃত এজেন্টগুলো ও ক্যাম্পভিত্তিক স্থানীয় মোবাইল ব্যবসায়ীরা অবৈধ উপায়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সিম লেনদেন করায় রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে মোবাইল ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্প এলাকায় কোনো প্রকার মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পের ভিতরে ৭-৮টি টাওয়ার স্থাপনের নেপথ্যে কে বা কারা যুক্ত রয়েছে তাদের খুঁজে বের করার দাবি জানান ওই ব্যবসায়ী। ক্যাম্পে বিকাল ৫টা থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকার ব্যাপারে প্রশাসনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না। ক্যাম্পে কর্মরত স্থানীয় কর্মজীবী সালাউদ্দিন জানান, ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টা মোবাইল নেটওয়ার্ক ও মোবাইল চালু থাকে। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গাদের অনেকে রাখাইনে তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা গেছে।

রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রশিদ আহম্মদ জানান, ক্যাম্পে অপরাধপ্রবণতার মাধ্যমে সহিংস ঘটনা সৃষ্টি ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারের মদদপুষ্ট কতিপয় রোহিঙ্গা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে এদেশে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করছে। এসব রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও বিলম্ব হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা বেশে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রত্যাবাসনবিরোধী কাজ করছে। তারা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এখানকার সার্বিক পরিস্থিতি সুনির্দিষ্ট স্থানে তুলে ধরছে বলে প্রতীয়মান হয়। তিনি রোহিঙ্গাদের মোবাইল সিমগুলো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করার জন্য আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, ইত:পূর্বে ক্যাম্পে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে ১০/১২টি মোবাইল দোকান মালিককে আটক করা হয়েছিল। এবার বড় ধরনের অভিযান বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।