টানা সাত কর্মদিবস ধরে পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে। এ সাত দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক বেড়েছে ৪১৭ পয়েন্ট। এদিকে সূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেন উঠে এসেছে দুই হাজার কোটি টাকার উপরে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। ২০১০ এ পুঁজিবাজার যখন তুঙ্গে সে সময় লেনদেন হয়েছিল দুই হাজার কোটি টাকার বেশি। এরপর আর কখনো হয়নি। সে হিসেবে বর্তমানে পুঁজিবাজারের লেনদেন ২০১০ এর সময়ের মতো উপরে উঠেছে। অর্থাত্ প্রায় সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে পুঁজিবাজারের লেনদেন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে প্রচুর তারল্য রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীসহ আরো অনেকে বাজারে বিনিয়োগ করছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগ করছে। তাই বাজার ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। পাশাপাশি লেনদেনও বাড়ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের দিকে ফিরতে শুরু করেছেন। ২০১০ সালের ধসের পর যারা শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগ গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তাদের অনেকে এখন আবার ফিরতে শুরু করেছেন। তাই বাজারও ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। তবে পুঁজিবাজার কখনোই একটানা বাড়া বা কমে যাওয়া ভালো দিক নয়। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদেরকে সাবধান থাকতে হবে। বিশেষ করে দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এ কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এর পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য না থাকার বিষয়ে জানানোর পরও বাড়ছে এ কোম্পানিগুলোর দাম।
ডিএসইর তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৯৭ পয়েন্ট। ৩২৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২২৪টি বা ৬৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। আর ৮৬টি বা ২৬ শতাংশ কোম্পানির দর কমেছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক ১৭১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে ১১৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ৭/৮দিন ধরেই পুঁজিবাজারে লেনদেনের শীর্ষে থাকছে বেক্সিমকো। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম। সঙ্গে লেনদেনও হচ্ছে বাজারের সব কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গতকাল বেক্সিমকোর ৭৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বারাকা পাওয়ারের শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ৫২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আর যমুনা অয়েলে শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।