রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে রেস্টুরেন্ট আছে অর্ধশতাধিক। এগুলোর অধিকাংশই বহুতল ভবনে অবস্থিত। নানা দেশি-বিদেশি এসব রেস্টুরেন্টে রান্না হয় গ্যাস সিলিন্ডারে। প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম হয় সেখানে। কিন্তু নিরাপত্তার কোনো বালাই নেই। শুধু সাতমসজিদ রোডই নয়, বনানী, গুলশান, উত্তরা, মিরপুর থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলছে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট। সবগুলোতে রান্নার কাজ চলে সিলিন্ডারে। বনানীর এফআর টাওয়ারে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, সেখানেও দুটি রেস্টুরেন্ট আছে বলে জানা গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানিয়েছে, গুলশান-বনানী এলাকায় অনুমোদনহীন দেড় থেকে দুই হাজার রেস্টুরেন্ট রয়েছে।
রাজধানীর গুলশান-বনানীর অলিগলিতে শত শত বাসাবাড়িতে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ভবনগুলোতে গড়ে উঠেছে দেশি-বিদেশি রেস্টুরেন্ট। ওই এলাকায় বিদেশিদের বসবাস এবং যাতায়াত থাকায় বেশির ভাগই বাণিজ্যিক ভবনে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বিদেশি রেস্টুরেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেরই সিটি কর্পোরেশনের ট্রেডলাইসেন্স নেই ।
অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব রেস্টুরেন্টগুলোর নিয়ম-নীতির বালাই নেই। অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাসের জন্য বেশির ভাগ রেস্টুরেন্টে নেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা। রেস্টুরেন্টের এক দিকে কিচেন তৈরি করে গ্যাস সিলিন্ডারে চলছে রান্না; অন্য দিকে চেয়ার-টেবিলের পসরা সাজিয়ে পরিবেশন করা হচ্ছে খাবার।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সূত্র বলছে, গুলশান-বনানী এলাকায় ৩০টির মতো রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স আছে। অথচ ওই এলাকায় রাস্তার অলিতে-গলিতে বাণিজ্যিক ভবনে বাংলা-ইংরেজি নামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট দেখা যায়।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. আব্দুল হামিদ মিয়া বলেন, গুলশান-বনানীতে দেড় থেকে দুই হাজার অনুমোদিত রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। এগুলো অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। দেখা গেছে, এক জায়গায় ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে অন্য জায়গায় অবৈধভাবে ব্যবসা করছে।
নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুলশান-বনানী এলাকার নকশাতে বাণিজ্যিক প্রয়োজনের জন্য আলাদাভাবে নকশা করা থাকলেও, তা মানা হয়নি। পরিকল্পিত নকশায় গড়ে ওঠা গুলশান-বনানী এখন ঘিঞ্জি এলাকায় পরিণত হয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে যেসব অফিস বা প্রতিষ্ঠান আছে তাদের নিজস্ব অগ্নিনিরাপত্তা থাকার পাশাপাশি ভবনটির আলাদা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি হ্রাস করা যায়। অথচ গুলশান-বনানী পরিকল্পিত আধুনিক নগর এলাকা হলেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা দেখলাম, ভবনে অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। এমনকি অগ্নিকাণ্ডের সময় বহির্গমনের পথও দেখলাম না। পরিকল্পিত এলাকায় এগুলো থাকা দরকার ছিল।
শুধু অভিজাত এলাকা নয়, পুরান ঢাকার অলিগলিতে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের রেস্টুরেন্ট। এর অধিকাংশেরই অনুমোদন নেই। এমনো দেখা গেছে, গলিতে রিকশা প্রবেশের জায়গা নেই। কিন্তু নানা ধরনের বিরিয়ানির রেস্টুরেন্ট রয়েছে।