বিপাকে ক্রেতা বিক্রেতা
মুন্না রায়হান ও মিলন রহমান
সবজির বাজারে ‘আগুন’। এতটুকু বললেও যেন কম বলা হবে। ভালো মানের একটা লাউয়ের দাম ১০০ টাকা। কচুমুখীর কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা! করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা! শুধু এ তিনটিই নয়— ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। শুধু সবজি নয়, মাছ, মাংসের দামও চড়া। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর ও মহাখালীসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ- বাজারে সরকারের নজরদারির অভাবে বিক্রেতারা নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, শীত মৌসুমের সবজি এখন শেষ। গ্রীষ্মকালীন সবজি উঠছে; কিন্তু চাহিদামতো সরবরাহ নেই। এছাড়া মোকামেও সবজির দাম বেশি।
দেশে সবজির সবচেয়ে বড়ো মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাট। শীত মৌসুম শেষ হওয়ায় এই হাটে সবজির সরবরাহ এখন কম। হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ কম হওয়ায় সবজির দাম বেশি। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাবে। প্রতি বছর চৈত্র মাসে সবজির দাম অন্যান্য সময়ের তুলনায় সাধারণত বেশি থাকে; কিন্তু তাই বলে এত বেশি। অথচ দেড় থেকে দুই মাস আগেও রাজধানীর বাজারে সব ধরনের সবজির দাম ছিল ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।
গতকাল শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা তাবাসসুম আরা অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আগুন’তো সবজি বাজারেও লেগেছে। এত বেশি দাম হলে সবজি কিনবো কিভাবে? তিনি বলেন, এই সময়ের লাউয়ে স্বাদ নেই, তারপরও ১০০ টাকার নিচে লাউ নেই। কাওরানবাজারে বাজার করতে এসেছেন আনিসুর রহমান। তিনি জানান, তার ডায়াবেটিস। যে কারণে সবসময় তিনি করলা কিনেন; কিন্তু করলার কেজি ৯০ টাকা শুনে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না কি করবেন!
এই বাজারের সবজি বিক্রেতা কবির উদ্দিন বলেন, মোকামে সবজি নেই। আর সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। তিনি বলেন, সাভার থেকে গতকাল মাত্র এক ট্রাক লাউ এসেছে। অথচ অন্যসময় আসে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ কম। বৃষ্টি হলে সবজির সরবরাহ বাড়বে। দাম তখন কমে আসবে।
গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি পটল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, সজনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শালগম ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভালো মানের প্রতিটি ফুলকপি ৫০ টাকা ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক হালি কাঁচকলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। তবে আলু তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। এছাড়া লাল শাক, পালং শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যে।
এদিকে গতকাল বাজারে দেশি পিঁয়াজ ও আদার দাম বেড়েছে। কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। আমদানিকৃত পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। আর কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মানভেদে আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায়। এছাড়া দেশি রসুন ৫০ থেকে ৭০ টাকা ও আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।
সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের দামও চড়া। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে রুই, কাতলা ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের কই ১৭০ থেকে ২২০ টাকা, শিং ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, ট্যাংরা ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, ইলিশ (৫০০ গ্রাম আকারের) ৫শ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের মধ্যে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫২০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, পাকিস্তানি কক জাতের মুরগি ২৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।