রাজধানীতে মানবপাচারকারী চক্রের ১৫ সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীতে আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও জিম্মিকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩ একটি টিম। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট, ভিসার ফটোকপি ও অর্থ। 
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৩-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারওয়ার।
 
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন লিবিয়ায় লোক পাঠিয়ে তাদের জিম্মি করে এবং পরে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। অন্যজন মালয়েশিয়ায় একইভাবে মানবপাচার করে। তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে জানিয়ে এ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, এই প্রতারকচক্রের শিকার এক ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া বুধবার অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
 
অভিযান সম্পর্কে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, র‌্যাব এ পর্যন্ত মানবপাচার রোধে ১৫৩টি অভিযান চালিয়ে পাচারকারী চক্রের ৪৪৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৭০২ ভুক্তভোগীকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২ জানুয়ারি নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব-৩। এর পর ৭ জানুয়ারি চক্রের মূল হোতা সেলিমুজ্জামান, তার সঙ্গী শহীদুল ইসলাম ও মাসুম আহমেদকে আটক করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
 
তারা হলেন- আনোয়ারুল আজিম, আল আমিন, আমির হোসেন, কাওছার উদ্দিন, রাশেদ খান, রায়হান খান, সাইফুল ইসলাম ওরফে আলম, জাহিদ হোসেন ওরফে মইনুল, এ এস এম মাহমুদুল হাসান ওরফে সুজন, জসিম উদ্দিন ও রাসেল খান। 
 
র‌্যাব-৩-এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার গোলাম সারওয়ার আরো জানান, ১৭ জানুয়ারি অপর একটি অভিযানে রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে লিবিয়ায় পাচারের সময় ১০ জনকে উদ্ধার করে র‌্যাব। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সাহিদা বেগম (৩২) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়।
 
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সেলিমুজ্জামান হলো এই চক্রের মূল হোতা। তিনি প্রথমে একটি স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। তাই তাকে অনেকে সেলিম মাস্টার নামে ডাকে। তিনিসহ বাকিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
 
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩-এর সহকারী পরিচালক এএসপি আবদুর রকিব খানসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। 
 
ইত্তেফাক/এএসএস/এমআই