ঝিনাইদহে অধিকাংশ দোকানে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নেই!

ঝিনাইদহ শহর আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে।  শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে নিজস্ব আগুন নির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। এমনকি একবালতি পানিও রাখা হয় না। আর কোথাও আগুন লাগলে যানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ফায়ার ব্রিগেডের পক্ষ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দোকানদারদের নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার জন্য বলা হলেও কেউ কর্ণপাত করে না। প্রশাসনও দেখে না।

জেলার বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এসব দাহ্য পদার্থ থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা বেশি। অবৈধভাবে খোলা জায়গায় পেট্রোল কেনাবেচা নিষিদ্ধ। যাদের দায়িত্ব তারা নজর দেয় না। জেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে ও হাট বাজারে খোলা জায়গায় প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার।

শুধু ঝিনাইদহ জেলা শহর নয়। কালীগঞ্জ, শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা শহরে ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা অগ্নি  নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখেন না।

দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও এ ব্যাপারে কেউ ভ্রুক্ষেপ করে না। নিয়ম আছে দোকানে একটি ফায়ার এস্টিংগুইসার রাখার। ১৫’শ টাকা দামের এ যন্ত্রটি প্রাথমিকভাবে আগুন নিভাতে অত্যন্ত কার্যকরি। দোকান মালিকেরা এটিও রাখেন না। এক বালতি পানি ও আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কার্যকরি। তাও কেউ রাখে না। জেলা শহরের প্রধান কাপড়ের মার্কেট গীতাঞ্জলি সড়কের বিপণী বিতানগুলো। এ মার্কেট ঘুরে কোনো দোকানে ফায়ার এস্টিংগুইসার দেখতে পাওয়া যায় না।

বাজারের ব্যবসায়ী রানা বলেন, আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফায়ার এস্টিংগুইসার রাখা প্রয়োজন। দোকানদারগণ বিষয়টি গুরুত্ব দেন না বলে স্বীকার করেন। 

দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  মনোয়ারুল ইসলাম মন্টু বলেন, আগুনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফায়ার এস্টিংগুইসার রাখা প্রয়োজন। তবে শহরের অধিকাংশ দোকানে এটি নেই। তবে তিনি এটি  স্থাপন প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলেন।

ঝিনাইদহ ফায়ার ব্রিগেড স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, নিয়ম থাকলেও ব্যবসায়ীরা নিজস্ব আগুন নির্বাপণের ব্যবস্থা রাখেন না। শহরে আগুন নেভানোর মত প্রয়োজনীয় পানির অভাব রয়েছে। জলাশয়গুলো ভরাট করে দোকান বা বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের গাড়িতে যে পানি থাকে তা দিয়ে মাত্র ২০ মিনিট আগুন নেভানো যায়।  তিনি বলেন, সদর হাসপাতালে আগুন  নেভানোর ব্যবস্থা নেই। সর্ব্বোচ্চ ৫ তলা পর্যন্ত আগুন নেভানোর ব্যবস্থা আছে তাদের। অথচ শহরে হাই রাইজ ভবন নির্মিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মহড়ার মাধ্যমে সকলকে আগুনের ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।