পঞ্চগড়ে পাচারকারীদের কাছ থেকে ৪০টি টিয়া পাখি উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে বাংলাবান্ধা থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি বাস থেকে এসব পাখি উদ্ধার করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন পাখিগুলোকে অবমুক্ত করেন।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাখি পাচারকারী একটি চক্র তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখি আটক করে পাচার করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনবিভাগের কর্মকর্তারা বাংলাবান্ধা থেকে সিরাজগঞ্জগামী রয়েল এন্টারপ্রাইজ নামে বাসটিকে চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় আটক করে। বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বাসটিকে চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় বাসটিতে অভিযান চালিয়ে ৪০টি টিয়া পাখির একটি খাঁচা উদ্ধার করে। খাঁচায় ৪০টি টিয়া পাখি ছিল। তবে বনবিভাগের কর্মকর্তারা পাচারকারীদের কাউকেই আটক করতে পারেনি। পরে পাখিগুলোকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন পাখিগুলোকে অবমুক্ত করেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ গোলাম আজম, বনবিভাগের পঞ্চগড় সদরের বিট অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম, বন কর্মকর্তা মধুসুধন বর্মন, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বাসের সুপারভাইজার জাহিদুল ইসলাম জানান, এই খাঁচাটি তেঁতুলিয়া থেকে বাসে তোলা হয়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, পাখিগুলো ছিল দেশি টিয়া পাখি। এ পাখিগুলোকে ঢাকায় পাচার করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা বাস থেকে পাখিগুলোকে উদ্ধার করি। তিনি আরো জানান, জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তীরনইহাট ইউনিয়নের হুলাসুজোত গ্রামের রুস্তম আলীর পুত্র আব্দুল জব্বার ফাঁদ পেতে এসব পাখি ধরে। পরবর্তীতে জব্বার এসব পাখি নাটোরের মজিবুল হক নামে এক পাচারকারীর কাছে বিক্রি করে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বনবিভাগ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাখিগুলোকে আটক করে। বন্যপ্রাণি আইনে পশু পাখি শিকার, ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ। বন্যেরা বনেই সুন্দর তাই তাদের অবমুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।