মুক্তিপণের বিনিময়ে ৬ জেলের প্রাণরক্ষা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অপহরণের পর মুক্তিপণের বিনিময়ে জলদস্যুর হাত থেকে ৬ জেলে মুক্তি পেয়েছে। অপহরণের পর জেলেদের পিটিয়ে আহত করা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে অপহৃত ৬ জেলে পরিবারের কাছে ফিরে আসে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জেলেরা মাছ ধরে ঘাটে ফেরার সময় লুধুয়া ঘাটের অদূরে মেঘনা নদী থেকে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত হয়। মুক্তি পাওয়া অপহৃত জেলেরা হলেন, উপজেলার পাটওয়ারির হাট ইউনিয়নের বাসিন্দা কালু মাঝি, শফিক মাঝি, চৌকির মাঝি, মুন্সির হাট এলাকার আজাদ মাঝি। অপহৃত অপর দুই জেলের পরিচয় জানা যায়নি।

অপহৃত কালু মাঝির ছেলে মো. মাসুদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে মাছ ধরে লুধুয়া ঘাটে ফেরার সময় ১০-১২ জন জলদস্যু কয়েকটি মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারে হানা দেয়। দস্যুরা জাল, মাছ, নৌকার ইঞ্জিন, নগদ টাকা, মোবাইল ও জ্বালানি তৈল লুটে নেয়। এ সময় বিভিন্ন নৌকার ছয় মাঝিকে অপহরণ করে তারা। অপহৃত জেলেদের মেঘনায় জেগে উঠা নতুন চরে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের আটক রেখে মারধর করে জলদস্যুরা।

পরে অপহৃত জেলেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তাদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বিকাশের মাধ্যেমে  ২০   থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় জলদস্যুরা।

অপহৃত জেলেদের স্বজনেরা জানান, অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে না জানাতে হুমকি দিয়েছে জলদস্যুরা। এ কারণে পুলিশকে অপহরণের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জেলেদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অপহৃত জেলে ও তাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এএন