রংপুরে ভুল চিকিৎসায় বকুল হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে নগরীর মেডিনোভা ক্লিনিকের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে শহরের ধাপ এলাকার ওই ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত বকুল হোসেন লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের দুলাল হোসেনের পুত্র।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি সকালে বকুল নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে তার বন্ধুসহ মোটরসাইকেলে সরকারের হাট যাচ্ছিলেন। পথে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরতর আহত হন বকুল। ওই দিনই স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক সামসুল হকের পরামর্শে তাকে রংপুরের সোনার বাংলা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন থাকার পর দালালের খপ্পরে পরে ৪ জানুয়ারি বকুলকে মেডিনোভা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর ৭ জানুয়ারি সেখানে বকুলের দুই পায়ে অস্ত্রোপচার করেন ডা. জাহিদ হোসেন। ৯ জানুযারি পর্যন্ত তার জ্ঞান না ফিরলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কৌশলে রংপুর মেডিকেলে ভর্তির জন্য পাঠিয়ে দেন। সেখানে জ্ঞান না ফেরা অবস্থায় শনিবার দুপুরে মারা যান বকুল হোসেন।
এদিকে ভুল চিকিৎসায় বকুলের মৃত্যুর অভিযোগে এনে বকুলের ছোট ভাই তারেক হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মেডিনোভা ক্লিনিকের ম্যানেজার তুলে চন্দ্র রায়কে (২৮) গ্রেফতার করে।
সহকারী পুলিশ সপুার সাইফুর রহমান জানান, মেডিনোভা ক্লিনিকের ম্যানেজার তুলে চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, মেডিনোভা ক্লিনিকের মালিক আনিছুর রহমান স্বাস্থ্য বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। তিনি বর্তমানে বরিশালে কর্মরত আছেন। অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিকটি পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। তবে সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় কাগজে-কলমে আনিছুর মালিক না হলেও সেটি দেখভাল করছিলেন তারই ভগ্নিপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। ঘটনার পর তিনি পলাতক রয়েছেন।
ইত্তেফাক/এমআই/ইউবি