সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ঐতিহ্যবাহী মেলা নির্ধারিত সময় পার হবার ৫ দিনেও বন্ধ হয়নি। অবৈধভাবে কোটি টাকা পজিশন বাণিজ্যের এ মেলা বন্ধে প্রশাসন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এ অবস্থা চলছে। এই সুযোগে আয়োজক টেইড়া বাবলু এবং থানা পুলিশ বর্তমানে মেলায় অবস্থানরত ৪ শতাধীক দোকান থেকে নতুন করে প্রতিদিন ১ থেকে ২শ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছে দোকানী ও এলাকাবাসী। তবে উপজেলা প্রশাসন মেলার আয়োজক ও দোকানীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছে।
জানা যায়, এনায়েতপুরে ওরশ উপলক্ষে ১০২তম মেলার আয়োজন করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে ১০ দিনের এই মেলা ৬ জানুয়ারী থেকে অনুমোদন নিয়ে শুরু করা হয়। এনায়েতপুর স্পার বাঁধের পশ্চিম প্রান্ত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার বিস্তৃত ছিল এই মেলা। এতে ঝুরি-সাজ, মোয়া-মুরকী, মিষ্টি, জিলাপী, খাবার হোটেল, আসবার, ক্রোকারিজ সামগ্রী, চুরি-মালা, নানান রকমের খেলনা, ব্যাগ, কোম্বল সহ নানা পসরা সাজিয়ে বসেছিল দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো দোকানীরা। এদের প্রত্যেকের কাছ থেকে টেইড়া বাবলুর নেতৃত্বে আয়োজক কমিটি পজিশনের নামে অবৈধ ভাবে ৫শ থেকে ৬শ টাকা নিয়ে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে জেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে এ মেলা ১৬ জানুয়ারী শেষ হলে এই টেইড়া বাবলু ও থানা পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের চাপের মুখে অর্ধেক দোকান চলে গেলেও মেলায় বর্তমানে ৪ শতাধীক দোকান অবস্থান করছে। যাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১শ থেকে ২শ করে টাকা অতিরিক্ত জোড় করে আদায় করা হচ্ছে। যা আয়োজক ও থানা পুলিশ ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে তারা চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছে দোকানীরা।
মেলার মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন নতুন করে টাকা দিতে হবে বলে বাধ্য করছে পুলিশ। এজন্য তারা দোকানীদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা প্রতিদিন তুলেছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে এনায়েতপুর থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
আর মেলার আয়োজক নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত মাহফুজুর রহমান টেইড়া বাবলু জানান, মেলা শেষ হয়েছে এখন আমি আয়োজনে জড়িত নই। যারা জড়িত তারাই চালাচ্ছে।
এদিকে চৌহালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত এবং বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হাসান জানিয়েছেন, সময় শেষ হওয়ায় মেলা নিষিদ্ধ। ঘোষণা দেয়া সত্যেও যারা মেলা চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএন