ঢাকার ধামরাইয়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শনিবার এক ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন। আহত শিক্ষার্থীর নাম গৌর ঘোষ (১৫)। সে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সে রোয়াইল ইউনিয়নের রোয়াইল গ্রামের নেপাল চন্দ্র ঘোষের ছেলে ও স্থানীয় রোয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। গৌর ঘোষের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে তার বাঁ পায়ের হাঁটুর আঘাত গুরুতর।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, গত বছর নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় গৌর ঘোষ কয়েক বিষয়ে ফেল করে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের কক্ষে গিয়ে সে দশম শ্রেণিতে ক্লাস করার অনুমতি প্রার্থনা করে। প্রধান শিক্ষক তাকে দশম শ্রেণিতে উন্নীত করা সম্ভব নয় জানিয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। তবে বারবার অনুরোধ করায় প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে তাকে পাইপ দিয়ে মারধর করেন তিনি। আঘাতের কারণে গৌর ঘোষ অচেতন হয়ে পড়লে তাকে সাভারের সুপার মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার পা প্লাস্টার করা হয়। এরপর বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক তাকে বাড়ি নিয়ে যান।
অবস্থায় গৌর ঘোষ বলে, দুই বিষয়ে ফেল করায় তাকে দশম শ্রেণির ক্লাস করতে দেয়া হচ্ছিল না। এ কারণে শনিবার সে প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের কাছে দশম শ্রেণিতে ক্লাস করার অনুমতি প্রার্থনা করে। তবে শিক্ষক হঠাৎ খেপে গিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে তার বাঁ পায়ের হাঁটুতে আঘাত করলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। চেতনা ফেরার পর নিজেকে সে হাসপাতালে দেখতে পায়।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, 'গৌর ঘোষ পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় তাকে দশম শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়নি। এরপরও সে দশম শ্রেণিতে ক্লাস করার অনুমতির জন্য চাপ দিচ্ছিল। এ কারণে লাঠি দিয়ে তার বাঁ পায়ে আঘাত করা হয়।'
জানতে চাইলে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক বলেন, 'ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওযা যায়নি। তবে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।'
ইত্তেফাক/এসএস