কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ৬ দফা দাবিতে লাগাতার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের চলমান কর্মসূচির প্রথম দিনেই ১১ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন।
রবিবার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে এ মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ১১ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।
জানা গেছে, ক্যাম্পাসে দীর্ঘ দিনের অস্থিতিশীল ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষকদের দ্বিধাবিভক্ত রাজনীতির কারণে চরম মাত্রায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। সম্প্রতি গভীর রাতে দুই শিক্ষকের বাসায় দুর্বৃত্তের হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা সঙ্কটে রয়েছেন শিক্ষকরা। বিগত কয়েক মাসে ছাত্র ও শিক্ষকদের ওপর নানা প্রকার লাঞ্ছনা ও হামলার প্রতিকারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করে আন্দোলনে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এর প্রেক্ষিতে রবিবার থেকে লাগাতার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষকদের এ সংগঠন। বৃহস্পতিবার বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হলেও কোন আশানুরূপ পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষকরা এ আন্দোলনের ডাক দেন।
১৭ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বাসায় পরিকল্পিত হামলার দ্রুত রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের গ্রেফতার, শিক্ষক লাঞ্ছনায় অভিযুক্ত ডিন এম এম শরীফুল করিমকে সকল পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া, খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা, নব নিযুক্ত প্রক্টরকে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ মোট ৬ দফা দাবিতে শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন।
এ দিকে মানববন্ধন শেষে উপাচার্যের কাছে শিক্ষকদের দাবি মেনে নিয়ে সোমবারের মধ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা চালু করার দাবিসহ শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ, নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পরিবহন ও আবাসন সঙ্কট নিরসন, জমি অধিগ্রহণসহ মোট ১১ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেন শিক্ষর্থীরা।
শিক্ষকদের চলমান কর্মসূচির জন্য রবিবার স্নাতকের ৫টি ও স্নাতকোত্তরের ১টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নুরুল করিম।IMG0
উল্লেখ্য, শিক্ষক সমিতির গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের মধ্যে দেখা যায় বিভক্তি। নির্বাচনে দ্বিধাবিভক্ত শিক্ষকরা বঙ্গবন্ধু পরিষদের নীল দল নামে দুইটি প্যানেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। তবে নির্বাচনে ১৭টি পদের সবগুলোতেই মূল ধারার বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্যানেল জয়লাভ করে।
নির্বাচনে জয়ী না হওয়াতে একটি মহল এসব কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা। ১৬ জানুয়ারি উপাচার্যের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দকে লাঞ্ছিত করেন উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা। এর আগে ১৬ ডিসেম্বর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. অবুল হায়াতকে বিভাগের সভাপতি এম. এম. শরীফুল করীম লাঞ্ছিত করেন ও মারতে উদ্ধত হন। আবুল হায়াত নিরাপত্তহীনতার কথা উল্লেখ করে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন। গত ১ আগস্টের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তার ও হল দখলকে কেন্দ্র করে কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ নিহত হন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কাউকে শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি।
শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী ওমর সিদ্দীকী রানা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আমরা আমাদের আন্দোলনে অটল আছি।’
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ বলেন, ‘শিক্ষকদের দুইটি পক্ষ আছে। আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। তবে শিক্ষকবৃন্দের কাছ থেকে কোন লিখিত দাবি পাই নাই। পত্রিকার মারফতে জানতে পেরেছি।’
ইত্তেফাক/এমআই