সকাল সাড়ে ১০ টায় কেতকীবাড়ি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বারন্দায় বসে থাকা করিমন বেওয়া (৬২) নামের এক বৃদ্ধা আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘ভাইরে মোর জ্বর, ডাক্তার দ্যাখেয়ার আইসছু। ডাক্তার নাই, ঘরোতও তালা। এইজন্য বারান্দাত বসি আছো। যেলা ডাক্তার আসিবে সেলা দেখাম।’
সরকার স্বাস্থসেবা জনগনের দোড়গড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলেও নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১০টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র জনবল ও আসবাবপত্র সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে।
গরিব মানুষেরা বিনা খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়া আশায় দিনের পর দিন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তালা ঝুলানো দেখে হতাশ হয়ে অসুস্থ্য শরীরে বাড়ি ফিরছে। উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় ডোমারে ব্যাঙের ছাড়ার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারী ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এ সুযোগে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে যাচ্ছে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ভুয়া আশ্বাস দেওয়া কিছু অসাধু চিকিৎসক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা ১০টি ইউয়িনে ১০টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিদিন সকাল আটটা হতে দুপুর দুইটা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চালু থাকার কথা। প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন এসএসিএমও, একজন এমটি ফার্মাসিষ্ট ও একজন এমএলএস থাকার কথা থাকলেও গোমনাতি, বামুনিয়া, মির্জাগঞ্জ ও পাঙ্গামটকপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাই। এজন্য গত কয়েক মাস ধরে এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর প্রধান গেটে তালা ঝুলছে। কেতকীবাড়ি ও ভোগডাবুড়ি দু’টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ফার্নিচারের অভাব থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ডোমার সদর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে একজন এসএসিএমও থাকলেও তিনি নিজের খেয়াল খুশি মতো কেন্দ্রটি পরিচালনা করেন। বাকি দু’একটিতে মেডিকেল অফিসার থাকলেও তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোরও একই অবস্থা।
রবিবার দুপুর ১২ টায় ডোমার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা হবিবর রহমান নামের ষাটোর্দ্ধ এক বৃদ্ধ বলেন, টাকার অভাবে সরকারী ডাক্তার দেখাতে ২/৩ দিন ধরে ঘুরছি। কিন্তু প্রতিদিন এসে তালা দেখে ঘুরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রাইভেট চেম্বারে ডাক্তার দেখানোর সামর্থ নেই তার। সরকারী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোও বন্ধ রয়েছে। তাহলে কি তিনি চিকিৎসা সেবা পাবেন না বলে তিনি প্রশ্ন তুলেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. হিরম্ব কুমার রায় কয়েকটি উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আসবাবপত্র সংকট রয়েছে। আমি প্রতি মাসে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করছি। কিন্তু কোনো সমাধান এখনো পাইনি। তাই এই অবস্থা!
ইত্তেফাক/এএন