যশোরের চৌগাছা থেকে তিন কিশোর নিরুদ্দেশ

যশোরের চৌগাছা থেকে তিন কিশোর নিরুদ্দেশ হয়েছে। প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে গিয়ে তারা আর ঘরে ফেরেনি। সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান মেলেনি। এতে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। পুলিশও রহস্যের কোনো ক্লু পায়নি।
 
নিখোঁজ তিন কিশোরই চৌগাছা শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। তারা হলো- চৌগাছা থানাপাড়ার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম শাওন, পশ্চিম কারিকরপাড়ার আরিফুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম এবং আব্দুল মালেকের ছেলে তন্ময়।
 
আশরাফুল ইসলাম শাওনের বাবা মো. শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, তার ছেলে শাওন প্রতিদিনের মতো দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে দুপুরে খাবার পর প্রাইভেট পড়তে যায়। রবিবার সে কিছুটা আগে বেলা সোয়া দুটোয় বের হয়। এসময় শাওন তার বোনকে প্রাইভেট পড়তে যাবার কথা বলে যায়। তন্ময় নামের এক বন্ধু তার সাথে ছিল। চৌগাছা বাজারে তার ছোটভাই সাইফুল ইসলাম (শাওনের চাচা) শাওন ও তার দুই বন্ধুকে এক বাইসাইকেলে যেতে দেখেন এবং জিজ্ঞাসা করে একই জবাব পান। এসময় তিন বন্ধুরই কাঁধে বইয়ের ব্যাগ ছিল। শাওন বাড়িতে না ফেরার পর বাসায় খোঁজ করে ৯ হাজার টাকা এবং তার শীতের কাপড় নিয়ে যাবার প্রমাণ পাওয়া যায়।
 
তিনি আরও বলেন, তার ছেলে কখনও বাসা থেকে একটি টাকাও নেয়নি। ২-৩ সপ্তাহ আগে তাকে একটি মোবাইল দেয়া হলেও সেটা সে তেমন একটা ব্যবহার করত না। যাবার সময় সেটাও সে নেয়নি। 
 
তন্ময়ের মা গোডাউন পাড়ার বাসিন্দা হাফিজা আক্তার সীমা জানান, তার স্বামী সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন এবং মিশনে দক্ষিণ আফ্রিকাতে রয়েছেন। তার ছেলে এর আগেও একবার বাড়ি থেকে পালিয়েছিল বলে জানান।
 
চৌগাছা শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, তন্ময় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়বার সময় একবার বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে বন্ধুদেরসহ আত্মীয় বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, এই তিনজনের মধ্যে কখনও খারাপ কিছু তিনি দেখেননি এবং তারা খেয়ালের বশে কোথাও বেড়াতে গেছে বলেই তার ধারণা। 
 
চৌগাছা থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, শাওনের বাবা রবিবার রাত ১১টার দিকে থানায় জিডি করেছেন। আমরা বিষয়টি সব থানায় জানিয়েছি। বইখাতার বদলে তারা জামাকাপড় নিয়ে বাসা থেকে পালিয়েছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/এমআই