বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গত চার মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে দুর্গাপুর পৌরসভার তিওরকুড়ি গ্রামের স্কুল ছাত্রী শিলা আক্তার উর্মি (১৪)। শিলা দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।
বাবা-মায়ের সংসার ভাঙ্গার পর থেকে নানীর কাছে থাকতো শিলা। বেড়াতে যাবার ক’দিন পর বান্ধবী বর্ষা বাড়ি ফিরলেও ফিরেনি শিলা। এ ঘটনায় শিলার নানী আলেয়া বেগম দুর্গাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেনি আদরের একমাত্র নাতনী শিলা। তাদের ধারণা শিলাকে কোনো চক্র পাচার অথবা বিক্রি করে দিয়েছে।
শিলার নানী আলেয়া বেগম জানান, গত ১৫/১৬ বছর পূর্বে তার মেয়ে রুমা খাতুনের বিয়ে হয় পালী গ্রামে। সেখানে বেশি দিন সংসার টিকেনি রুমার। কিন্তু ততদিনে রুমার কোল জুড়ে জন্ম নেয় শিলা। শিলা যখন খুব ছোট তখন তার মায়ের তালাক হয়। সেই থেকে শিলা নানীর কাছেই বড় হয়েছে।
প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে দুর্গাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে ভর্তি হয় শিলা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিলার বান্ধবী বর্ষা খাতুন শিলার নানীর বাড়িতে বেড়াতে আসে। বর্ষা উপজেলার বখতিয়ারপুর গ্রামের লোকমান আলীর মেয়ে। একদিন থাকার পর বান্ধবী বর্ষা বাড়ি চলে যায়। কয়েকদিন পর গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বান্ধবী বর্ষা শিলাকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে তার নানীর কাছ থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে শিলা।
আলেয়া বেগম আরো জানান, তার নাতনীকে বান্ধবী বর্ষা নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তারা বর্ষার বাড়িতে অনেকবার গেছেন। কিন্তু বর্ষা তাদের ভুল তথ্য দিয়ে হয়রানি করেছেন। কখনো বলেছেন শিলা রাজশাহীর একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন। আবার কখনো বলেছেন আবাসিক হোটেলে রয়েছেন।
বর্ষার দেয়া তথ্যানুযায়ী পুঠিয়া উপজেলার রুহুল আলম নামের এক ব্যক্তি আলেয়া বেগমকে ফোনে জানান, শিলার খোঁজ তার কাছে রয়েছে। ১০ হাজার টাকা দিলেই শিলাকে তারা বের করে দেবেন। একই ভাবে দুর্গাপুরের শ্যামপুর গ্রামের সুবজ নামের আরেক ব্যক্তি আলেয়া বেগমকে জানান, তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ও খরচপাতি দিলেই শিলার খোঁজ পাওয়া যাবে।
সবুজ আরো জানায়, শিলাকে রাজশাহী নগরীর মামুন নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। টাকা দিলে শিলাকে তারা ছেড়ে দেবেন।
পৌর এলাকার চৌবাড়িয়া গ্রামের সুমন নামের আরেক ব্যক্তি আলেয়া বেগমকে একইভাবে তথ্য দেয়ার নাম করে টাকা দাবি করেন। প্রত্যোকের সঙ্গে আলেয়া বেগম যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু তাদের দাবিকৃত টাকা আগে পরিশোধ না করায় শেষ পর্যন্ত তারা কেউই শিলার সর্বশেষ অবস্থান জানাননি।
উপায় না দেখে আলেয়া বেগম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পরামর্শে গত বছরের ৮ নভেম্বর দুর্গাপুর সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। ডাযেরী নম্বর ৩৩৫।
আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, বান্ধবী বর্ষা তার নাতনী শিলাকে পাচার অথবা বিক্রি করে এসেছে। নিখোঁজের পর থেকে শিলার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। শিলার খোঁজ জানতে বান্ধবী বর্ষার কাছে যাওয়া হলেও সে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের হয়রানি করেছে। বর্ষাকে গ্রেফতার করা হলেই তার নাতনী শিলার খোঁজ পাওয়া যাবে বলে তিনি দাবি করেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি রহুল আলম বলেন, জিডির সূত্র ধরে বিভিন্ন থানা ও জায়গায় বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। শিলাকে খুজে পেতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।
ইত্তেফাক/এএন