মানবপাচার মামলায় জামিন না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাশ ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আইনজীবীরা আইন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও তাদের কাছ থেকে কখনোই এজলাশ ভাংচুর ও মামলার মূল্যবান নথি তছনছের যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা কখনোই কাম্য নয়। নি:সন্দেহে এহেন কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় ও গুরুতর পেশাগত অসদাচরণের শামিল। এরূপ আচরণকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যতীত অন্য কোন বিকল্প নেই। এমতাবস্থায় আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বার কাউন্সিল এ ঘটনায় জড়িত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল বাসেত মজুমদার বরাবর এই চিঠি পাঠান।
মানব পাচার আইনে করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবী জামাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তারের জামিন আবেদন না-মঞ্জুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীরা চট্টগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর, মামলার নথি তছনছ ও বিচারকের খাস কামরার বাইরের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এমনকি বিচারককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে অন্য একটি আদালত ওই দু’জনের জামিন মঞ্জুর করে। এ ঘটনায় ইতমধ্যে প্রধান বিচারপতি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। কমিটির তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের চিঠিতে বলা হয়েছে, আইনজীবী ও তার স্ত্রীর জামিন ও রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুরের পর কোন কারণ ছাড়াই চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কতিপয় আইনজীবী নজিরবিহীনভাবে অনাকাঙ্খিত পেশাগত অসদাচরণ করেন। তাদের মধ্যে আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা আদালতের নথি ছুড়ে মারেন। আইনজীবী চন্দন বিশ্বাস, শাকিল, আউয়াল খান, টি আর খান, প্রদীপ দাশ, শিবলী, মাসুদ পারভেজ এবং মুস্তাফিজসহ আরো কয়েকজন আদালত প্রাঙ্গণে শ্লোগান প্রদান ও বিচারকের নাম উল্লেখ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ আদালত কক্ষ, বিচারকের খাস কামলা ভাংচুর করেন।
চিঠিতে বলা হয়, বিগত ২০০০ সালে ঢাকার চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীরা অনুরূপ আচরণ করলে একটি মামলা দায়ের এবং আইনজীবীরা গ্রেপ্তার হন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নির্দেশে বর্তমান ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি। আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা বার কাউন্সিলের দায়িত্ব।
প্রধান বিচারপতি মনে করেন, বার কাউন্সিল এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঘটনাটির সুষ্ঠু সমাধান করবে। নতুবা এরূপ অনাকাঙ্খিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানো যাবে না। আইনের শাসন ভেঙ্গে পড়বে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, আইনজীবীরা আইনের শাসন তথ্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর পরিশ্রম এবং এ লক্ষ্যে আদালতকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে থাকেন। আইনজীবী ও আদালত কখনোই একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক।
ইত্তেফাক/এমআই