সন্ত্রাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও ভারতকে একাত্তরের মূল্যবোধে ফিরে যেতে হবে

 
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো উচ্চতায় নিতে এবং সন্ত্রাসকে পরাজিত করতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্পর্কে ফিরে যেতে হবে বলে মনে করেন দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এর মাধ্যমে ধর্মীয় চরমপন্থাকে পরাজিত করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন। সোমবার নয়াদিল্লিতে ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।
 
সেমিনারে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার পথে হাঁটছেন। এই পথ চালু রাখতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার মূল্যবোধে ফিরে যেতে হবে। তখনকার সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, এইচ এম এরশাদ এবং খালেদা জিয়া ভারত বিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে সামপ্রদায়িকতার পথে নিয়ে গিয়েছিলেন। বেগম জিয়া মানুষকে ভুল বুঝিয়েছিলেন। তিনি বলতেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে বাংলাদেশ ভারতের অংশ হয়ে যাবে এবং ইসলাম ধর্ম হুমকির সম্মুখীন হবে। ১৯৪৭ সালের পর একই কাজ করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিরা। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান তো আল-বদর, আল-শামস এবং রাজাকারদের পুনর্বাসিত করে বাংলাদেশকে একটি মিনি পাকিস্তানে পরিণত করেছিলেন। খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাদেশ ছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফাদের স্বর্গ।
 
ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাই দেখিয়ে দিয়েছে যে ধর্ম জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হতে পারে এমন ধারণা মিথ্যা। তিনি বলেন, ইসলাম যদি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিই হবে তাহলে আরব দেশগুলোতে কেন হয়নি?
 
আকবর বলেন, এই অঞ্চলের মূল হুমকি সন্ত্রাসবাদ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা মূল ইস্যু। সন্ত্রাসীরা সেই সুযোগ নিতে চায়।
 
সেমিনারে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীসহ ভারতের কয়েকজন কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন।
 
ইত্তেফাক/আরএ