চুয়াডাঙ্গায় মা-মেয়ে হত্যা মামলায় একজনের ফাঁসির আদেশ

চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলপাড়ার চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলায় আসামী মনজুরুল ইসলাম লিপুকে (৪২) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। রায়ে আসামীকে নগদ ৫০ হাজার টাকা জমিমানার আদেশ প্রদান করা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রোকনুজ্জামান জনাকীর্ণ আদালতে এই আদেশ দেন। দণ্ডিত মনজুরুল ইসলাম রেলপাড়ার মৃত গোলাম হোসেন মল্লিকের ছেলে।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর সকালে আসামী মনজুরুল ইসলাম লিপু তার নিজ বাড়ির ভাড়াটিয়া নাসরিন বেগম ও তার মেয়ে আয়েশা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় নিহত নাসরিন বেগম ৮ মাসের  অন্তসত্বা ছিল। লিপু খুন করে পালানোর সময় ওইদিন বেলা ১২ টার দিকে চুয়াডাঙ্গার পাঁচকপাট নামক স্থানে চলন্ত ট্রেনে ওঠার সময় তার ডান পা ট্রেনে কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায়, আসামী লিপু পুলিশের নিকট গ্রেফতার হয়।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার উত্তর বারীখাল গ্রামের আব্দুল হাকিম খানের ছেলে চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ওই সময়ে স্ত্রী ও মেয়ে হত্যার দায়ে ১৬ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হত্যার অভিযোগ তুলে  লিপুকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে, চাঞ্চল্যকর মা ও মেয়ে হত্যা মামলায় ২০০৯ সালের ১৭ নভেম্বর আসামী মনজুরুল ইসলাম লিপু চুয়াডাঙ্গার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ আমিনুল ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। সদর থানার এসআই আমীর আব্বাস তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৬ জানুয়ারি আসামী লিপুর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রোকনুজ্জামান প্রকাশ্যে রায় পড়ে শোনান। প্রকাশিত রায়ে বিজ্ঞ বিচারক আসামী মনজুরুল ইসলাম লিপুকে তার উপস্থিতিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্তে  মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ প্রদান করেন।

সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শাজাহান মুকুল।

ইত্তেফাক/এএন