৩০ বছরে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু

 
অফুরান প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা। এর মধ্যে বালি-পাথর অন্যতম। আর এ গুলোর উত্স বিশেষ করে চার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা। সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জাফলং, কানাইঘাট সহ বিভিন্ন স্থানের পাহাড়ী নদী, টিলা ও জনপদ পাথরের জন্য প্রসিদ্ধ। এ সব স্থান থেকে বহুকাল ধরেই হাজার হাজার শ্রমিক পাথর, বালি আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এরা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে পাথর কোয়ারিতে কাজ করে। এক সময় শ্রমিকরা নিজেরাই দু’হাত দিয়ে শরীর খাটিয়ে পাথর উত্তোলন করতো। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে এ সব বালি পাথরের কোয়ারির নেপথ্যে থাকা ‘গড ফাদার’রা বোমা মেশিন নামায়। বোমা মেশিনের সাহায্যে নদীর তলদেশ বা পাহাড়ের গভীর থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করে । এতে পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে পড়লে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত এক বছর থেকে ‘বোমা মেশিন’ নিষিদ্ধ হয়। পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ হয় বহু আগেই। তার পরও এই ‘বোমা মেশিন’ চলে বিভিন্ন পাথর কোয়ারিতে। মাঝে মধ্যে অভিযান হলে তা বন্ধ থাকে। কিছুদিন পর আবার যেই সেই। পাথর তোলা ও পাহাড় কাটা চলতেই থাকে।
 
সিলেটের পাহাড়-টিলা কাটতে গিয়ে বা পাথর কোয়ারিতে চাপা পড়ে প্রায়ই মারা যাচ্ছে নারী ও পুরুষ শ্রমিক। বছরে কত শ্রমিক মারা যায়-তার সঠিক হিসাব জানা না গেলেও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় গত ৩০ বছরে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারিতে। দুর্গম এলাকার ঘটনা অনেক সময় প্রকাশ পায় না গডফাদারদের কারসাজিতে। ‘বোমা মেশিনে’ পাথর আহরণের ফলে পরিবেশ ধ্বংসের মামলা হলেও আসামি পাওয়া যায় না। নিহতরা সবাই বাইরের জেলার বাসিন্দা। তারা কাজের সন্ধানে আসে শ্রমিক হিসাবে। তাই পাথর চাপা পড়লে বা পাহাড় ধসের ঘটনাকে তারা নিজেদের ‘ভাগ্য’বলে মেনে নিয়েছে।
 
তবুও বোমা মেশিন চলে: গত সোমবার শাহ আরপিন টিলায় পাহাড় কাটতে গিয়ে ৩ শ্রমিকের মৃত্যুর পরও সেখানে নিষিদ্ধ বোমা মেশিনের সাহায্যে পাথর উত্তোলন চলছিল । মঙ্গলবার দুপুরে ওই টিলায় অভিযান চালিয়ে একটি বোমা ও ১১টি সেলো মেশিন ধ্বংস করে দেয় তদন্ত দল। শ্রমিক নিহতের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) আবু সাফায়াত্ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ ও কোমপানীগঞ্জ থানার ওসি বায়েছ আলমও ওই টিলায় যান। এই টিলা থেকে পাথর উত্তোলনে আঞ্জু মিয়া নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শ্রমিক দিয়ে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে আঞ্জু মিয়া জানান তাদের পরিবারে কেউ পাথর ব্যবসায় জড়িত নয়।