প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণের পর থেকে একে একে নিজের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সর্বশেষ নজির হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, ভিসা নেয়া ও শরণার্থীদের আগমনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে বুধবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন তিনি।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও সিএনএন জানায়, ট্রাম্প বুধবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে আলাপ এবং সেখানে শরণার্থী ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক আদেশে স্বাক্ষর করবেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসনের বিষয়গুলো দেখভাল করে।
ট্রাম্প মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় বলেন, 'জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক একটা বড় পরিকল্পনা আগামীকাল আসছে। অনেক বিষয়ের মধ্যে একটা হল আমরা দেয়াল তৈরি করবো।'
Big day planned on NATIONAL SECURITY tomorrow. Among many other things, we will build the wall!
— Donald J. Trump (@realDonaldTrump) January 25, 2017
ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণাকালে মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে একটি দেয়াল নির্মাণের অঙ্গীকার করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি অভিবাসন আইন কঠোর করারও ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রচারণাকালে তিনি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা পুরোপুরি বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে এটা এখনও স্পষ্ট নয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী জন কেলি কি আদেশ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। এর আগে মনোনয়ন নিশ্চিত করার সময় তিনি বলেছিলেন, শিগগিরই সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করা নাও হতে পারে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার অভিবাসন ও তথাকথিত অভয়নগরী বিষয়ক আদেশে স্বাক্ষর করতে পারেন। এসব নগরীর কর্মকর্তারা অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করতে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, নির্বাহী আদেশের ফলে ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের শরণার্থী ও ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া কঠোর হবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সিরিয়ায় বর্বর গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচার জন্য যারা আশ্রয় চায় তারাসহ ১শ২০ দিনের মধ্যে শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে আসা লোকদের অভিবাসন বা অ-অভিবাসন ভিসা প্রদান ৩০ দিন বন্ধ থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন, অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সিজন্স ও অন্যান্য সিনিয়র উপদেষ্টারা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ সংক্রান্ত আলোচনায় ব্যাপকভাবে অংশ নেন।
ট্রাম্প ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভাল প্রোগ্রামস স্কিম বাতিলের অঙ্গীকার করেছেন। ২০১২ সালে ওবামা এটি করেছিলেন।
এর আওতায় সাড়ে সাত লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসী তরুণ সন্তান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। তবে ট্রাম্প এ কর্মসূচি কিভাবে সামাল দেবে তা তিনি স্পষ্ট করেননি। বাসস।
ইত্তেফাক/আরএ