সুন্দরগঞ্জের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যার জন্য খুনিরা কেন নিরাপদ জায়গা হিসেবে তার নিজ বাড়িকেই বেছে নেয়। কীভাবে খুনিরা পরিচয় না দিয়েই বৈঠকখানার ভিতরে ঢুকে পড়ার সুযোগ পেল? লিটনের অতি প্রিয় ও তার অতন্দ্র প্রহরী জার্মান শেফার্ড কুকুর দুটো ওই সময় কোথায় ছিল? না কোথাও রাখা হয়েছিল? দুর্বৃত্তরা পর পর রিভলবারের ৫টি গুলি করার পরও কেন তার নিকটজনেরা লিটনের কাছে এগিয়ে এলো না? লিটন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কাউকে কাছে না পেয়ে তাকেই কেন দৌড়ে বাড়ির ভেতরে আঙিনার দিকে ছুটে যেতে হলো?
এমপি লিটন হত্যার ২৫ দিনেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় বুধবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রশ্ন তুলেছেন ওই হত্যা মামলার বাদী তার ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী ও বড় বোন আফরুজা বারী জোছনাসহ তার স্বজনরা। এ সময় বড় বোন আফরুজা বারী জোছনা বলেন, আমরা ধারণা করছি ভাড়াটে খুনি দ্বারা এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর পিছনে আছে মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক, পরিকল্পনাকারী, অর্থের জোগানদাতা। তার সবশেষে ছিল ভাড়াটে খুনিরা।
সংবাদ সম্মেলনে এমপি লিটনের দুই বোন ছাড়াও চাচাতো ভাই তৌফিকুর রহমান আইনী মুকুট, ফুফাতো ভাই আনিসুর রহমান, ভাগ্নি মেহের নিগার মমি, চাচাতো বোন শিবলী আকতার উপস্থিত ছিলেন। তবে এমপি লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি, জীবিতকালে তার সবসময়ে পাশে থেকে তার ব্যবসা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখাশোনা করা শ্যালকরা বা শ্বশুরবাড়ির কোনো আত্মীয় স্বজনকে দেখা যায়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে লিটনের বোনেরা তিনি (লিটনের স্ত্রী) ঢাকায় আছেন বলে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে এমপি লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিজের অসুস্থতা ও ছেলের পরীক্ষা থাকায় তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
এমপি লিটনের বড় বোন আফরুজা বারী জোছনা বলেন, আমাদের আকুতি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যার সূত্র উদঘাটিত হোক। খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেই লিটনের বিদেহী আত্মা শান্তি পাবে। এমপি লিটনের শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে মামলার বাদী ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বলেন, এই মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে আমরা ভাবছি না।
এই হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশের পরিদর্শক আবু হায়দার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, লিটন হত্যা মামলায় বুধবার পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ১৪ আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি আরো জানান, লিটন হত্যাকাণ্ডের সময় তার বাড়িতে অবস্থানরত কর্মচারী, তার শ্যালক বেদারুল ইসলাম বেতারকে একাধিকবার থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ফলে খুনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের হাতে অনেক তথ্য-উপাত্ত এসেছে। শিগগিরই হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হবে। ডিশ লিটন ৩ দিনের রিমান্ডে
এদিকে এমপি লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার সর্বানন্দ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য রেজাউল ইসলাম লিটন ওরফে ডিশ লিটনের (৪০) ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বুধবার দুপুরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল হাসান ইউসুফ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রেজাউল ইসলাম লিটন জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী। অন্যদিকে এমপি লিটন হত্যা মামলায় ডিএম মাসুদার রহমান মুকুল ওরফে মিসকিন মুকুল (৪৪) ও শিবির কর্মী সাইফুল ইসলামের (২৫) তিন দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে বুধবার। তাদের বুধবার জেল হাজাতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসএসএ