বিনা বিচারে এক যুগের বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী থাকা পাঁচজনকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো: নুরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এইচ নুরুল হুদা জায়গিরদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
জামিনপ্রাপ্তরা হলেন-রাসেল শেখ, মোহাম্মদ পারভেজ, মাসুদ, গারো তরুণ লিটন ও বাবু।
এছাড়া বিনা বিচারে কারাগারে থাকা অপর দুই আসামি সাইদুর রহমান ও রাজীব হোসেনকে জামিন না দিয়ে তাদের মামলা তিম মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতে বন্দীদের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বেহেশতী মারজান।
এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিনা বিচারে সাত বন্দীর এক যুগের বেশি সময় কারাগারে আটক থাকা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করে। ঐ প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বেহেশতী মারজান।
এরপর গত ১৫ ডিসেম্বর সাত বন্দীর বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেয় হাইকোর্ট। রুলে কেন তাদের জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। সেই সঙ্গে সাত বন্দীকে ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয় এবং তাদের মামলার নথি আদালতে তলব করা হয়।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আদালতের আদেশের কপি না পৌঁছানের কারণে ২৪ জানুয়ারি বন্দীদের আদালতে হাজির করা যায়নি। পরে আদালত বন্দিরের হাজিরের জন্য ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করে দেয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কাফরুল থানায় হওয়া এক অস্ত্র মামলায় ২০০৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে রাসেল শেখ কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের এক মামলায় ২০০৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে সাইদুর রহমান কারাগারে আছেন, ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর খিলগাঁও থানায় হওয়া এক হত্যা মামলায় রাজীব হোসেন একই বছরের ৬ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে আছেন, ২০০৪ সালে কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে হওয়া মামলায় মোহাম্মদ পারভেজ ওই বছরের ২ জুলাই থেকে কারাগারে আছেন, শ্যামপুর থানায় হওয়া এক মামলায় ২০০৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে মাসুদ নামের এক আসামি কারাগারে আছেন, গারো তরুণ লিটন চাম্বু গং উত্তরা থানায় করা এক হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা এক মামলায় ২০০৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে বাবু নামের এক আসামি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।
ইত্তেফাক/এএসএস