তুলা আমদানিতে নানামুখী সমস্যার কথা বললেন উদ্যোক্তারা

দেশে গার্মেন্টসের প্রধান কাঁচামাল তুলার প্রায় পুরেটাই আমদানি নির্ভর। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বড় তুলা আমদানিকারক দেশ। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৬১ লাখ বেল তুলা আমদানি করেছে। আমদানিকৃত এ তুলার অর্ধেকই আসে প্রতিবেশী ভারত থেকে। তুলা আমদানির ক্ষেত্রে বেশকিছু সমস্যা রয়েছে বলে মনে করছেন এদেশের তুলা আমদানিকারক ও বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা। 
 
শুক্রবার রাজধানীর র‌্যাডিসন হোটেলে ‘গ্লোবাল কটন সামিটের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব সমস্যা তুলে ধরে তা সমাধানে ভারতের তুলা রপ্তানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। দুই দিনব্যাপী ওই সামিটের উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করেছে। সামিটে ভারতসহ মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকার তুলা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। 
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিটিএমএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, অনেক সময় আমদানিকৃত তুলা যথাযথ গুণগত মান অনুযায়ী পাওয়া যায় না। এমন অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হলে ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাসোসিয়েশন (আইসিএ) নির্ধারিত জর্মানির ব্রেমেনের ল্যাবে তুলার নমুনা পাঠাতে হয়। এটি সময়সাপেক্ষ। এ ধরনের বিরোধের রায় আমদানিকারকের পক্ষেও আসে না। আবার অনেক সময় আমদানিকারককে তুলার দাম সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়া হয়। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু এ জাতীয় ক্ষতি কমাতে রপ্তানিকারকের সহযোগিতাও পাওয়া যায় না। এছাড়া আমদানিকারক কর্তৃপক ঋণপত্র (এলসি) খোলার পর রপ্তানিকারক সঠিক সময়ে তুলা পাঠাতে ব্যর্থ হন। আইসিএ’র বিধি অনুযায়ী কোন ক্ষতিপূরণ পান না। অথচ এলসি খুলতে দেরি হলে আমদানিকারককে বাড়তি অর্থ গুণতে হয়। এর বাইরেও আরো বেশকিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে এসব সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। 
 
দেশের কটন সেক্টরের চলমান চ্যালেঞ্জ নিরসনে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে মনযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, এর ফলে আমদানি ব্যয়ও সাশ্রয় হবে। বড় বড় তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শক্তিশালী করতে হবে। তুলার আমদানি ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে আমদানি বাজারকে বহুমুখীকরণ করতে হবে। বিশেষত তুলা উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে মনযোগ দিতে হবে। দেশীয় উৎপাদনকারীদের তুলার সঠিক মূল্য দিতে হবে। 
 
আলোচনায় অংশ নিয়ে  আফ্রিকান কটন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মালুম তুলা রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের প্রায় ৭৭ লাখ বেল তুলার প্রয়োজন হবে। আফ্রিকান তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলো এর পুরোটাই সরবরাহ করতে প্রস্তুত। 
 
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশে বতসোয়ানা’র হাইকমিশনার রেসিকো ই মানসুমি, বিসিএ’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’র প্রতিনিধি মহেশ সর্দার প্রমুখ। দিনব্যাপী একাধিক সেমিনারে তুলা উৎপাদক, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা নিজস্ব সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। শনিবার এ সম্মেলন শেষ হচ্ছে। 
 
ইত্তেফাক/এমআই