‘আমাদের প্যানেল শিল্পী সমিতির ফান্ড গঠনে জোর দেবে’

 
আর কিছুদিন পরই শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এবার নির্বাচনে একটি প্যানেল থেকে নির্বাচন করছেন ওমর সানী। নির্বাচন ও পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেবব্রত ভৌমিক
 
শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
 
আমার দেখার জায়গা থেকে বলবো আমাদের শিল্পী সমিতি সিস্টেমের অভাবে ভুগছে। এখানে নির্দিষ্ট করে কোনো নিয়ম নেই। নেই কোনো বাত্সরিক কর্মকাণ্ড। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেলের পিকনিক, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের শিল্পীদের মিলনমেলা হচ্ছে। আমাদের সমিতি থেকে চাইলে এমন আয়োজন করা যায়। কিন্তু সে আয়োজনটা হয় না। আমাদের নির্ভর করে থাকতে হয় অন্যের ওপর। আমি আমাদের শিল্পী সমিতির কোনো তহবিল দেখি না, যার কারণে অনেকের নামের পাশে লেখা হয় দুঃস্থ শিল্পী। আমাদের প্যানেল শিল্পী সমিতির ফান্ড গঠনে জোর দেবে।
 
সমিতির দায়িত্ববোধের অনেক জায়গা রয়েছে। আপনাদের দায়িত্ববোধ প্রসঙ্গে বলুন—
 
আমার নির্বাচনী প্যানেল আমাদের শিল্পী সমিতি প্রধান ও জরুরি সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে চায়। এরমধ্যে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ৭টি সমস্যা বের করা হয়েছে। আগেই বলেছি সবার আগে শিল্পী সমিতির দরকার একটি তহবিল গঠনের। আমার খুব অবাক লাগে যখন আমাদের শিল্পী সমিতির অনেককেই বেতনের জন্য মাসের পর মাস ঝুলে থাকতে হয়। কেন এমনটা হবে? কোনো শিল্পী অসুস্থ হলে কিংবা মারা গেলে আমরা খুব সহজে তাকে ভুলে যাই। কিন্তু এখানে আমাদের করণীয় ঐ শিল্পীর পাশে থাকা, শিল্পীর পরিবারকে সাহায্য করা। প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, আমাদের শিল্পীরা শিডিউল ফাঁসান। এসব বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করবে আমার প্যানেল। শিল্পী সমিতি একটা নিয়ম মেনে চলবে। এমনভাবে কাজ করবো যেন শিল্পী সমিতির প্রতি শিল্পীদের আস্থা থাকে।     
 
এফডিসির বর্তমান অবস্থা খুব নাজুক। এফডিসি নিয়ে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
 
এফডিসির এই অবস্থা নতুন নয়, আরো কয়েকবছর আগে থেকেই এমন। যেখানে যোগ্য লোক দরকার সেখানে আপনি আনাড়ি কাউকে দিয়ে কাজ করছেন যে কি-না চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নয়। চলচ্চিত্র নিয়ে যার কোনো ধ্যান, জ্ঞান নেই। যে শিল্পী চেনে না, চেনে না চলচ্চিত্রের পরিচালক। আমাদেরকে আবার এফডিসিমুখি হতে হবে। এফডিসিকে কাজের জন্য যোগ্য করে তোলার দায়িত্বটা আমাদের। শুধু আমাদের নয়, আমাদের পরিচালক-প্রযোজকদেরও দৃষ্টি রাখা উচিত এফডিসির প্রতি। তাদের কাজের মধ্যেও যেন থাকে এফডিসির সঠিক ব্যবহার।
 
যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক আন্দোলন হয়েছে। শিল্পী সমিতি থেকেও কার্যক্রম দেখা গেছে। কিন্তু পরবর্তীতে এর কোনো প্রতিষ্ঠিত ফল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আপনাদের পদক্ষেপ কী থাকবে?
 
আমাদের নির্বাচন ইশতেহারে এই বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সবার আগে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ, তারপর নীতিমালা। আমাদের প্যানেল যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রের নীতিমালার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সবার আগে। শুধু যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নয়, আমাদের পরিকল্পনা আছে প্রযোজক-পরিচালক সমিতি, শিল্পী সমিতি এই তিন সমিতি মিলে আমাদের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে কাজ করা।
 
ইত্তেফাক/এমএআর