বনানীর বহুতল ভবন এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে পাইপ ধরে রাখা এক ব্যতিক্রমী শিশুর ছবি। তার নাম নাঈম ইসলাম। রাজধানীর কড়াইল বৌ বাজার বস্তিতে বাবা-মা ও এক বোনের সঙ্গে তার বসবাস। গ্রামের বাড়ি বরিশালে। স্থানীয় আরবান স্লাম আনন্দ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। সামাজিক যোগযোগের মাধ্যমে ‘হিরো’ হয়ে ওঠা নাঈম গতকালও এসেছিল পোড়া ভবনের (এফআর ভবন) সামনে। ছিল অনেকটা খোশ মেজাজে। বসেছিল পুলিশ সদস্যদের পাশে রাখা একটি চেয়ারে। এসময় তার বুদ্ধিদীপ্ত কাজের জন্য অনেকেই তাকে ধন্যবাদ জানান, অনেকে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।
ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহূত ফায়ার সার্ভিসের একটি পাইপের ছিদ্র দুই হাতে চেপে ধরে আছে শিশু নাঈম। ছিদ্র দিয়ে পানি যেন অন্য বেরিয়ে না যায়, সে জন্য দুই হাতে চেষ্টা চালায় নাঈম।
গতকাল আলাপকালে নাঈম জানায়, তার বাবা রুহুল আমিন বনানীতে ডাব বিক্রি করেন। মা বাসাবাড়িতে কাজ করেন। বাবার ব্যবসা বনানীতে এলাকায়। নাঈম আগুনের খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসে। নাঈম জানায়, মানুষগুলোর জীবন বাঁচাতে আমার মতো করে সাহায্য করছিলাম। সবাই সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করছিল যেন মানুষগুলো বাঁচতে পারে। তাই আমিও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসি। রাস্তার পাশে পলিথিন নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাইপ ধরে অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতা করি।
যখন ভবনের গ্লাস ভেঙে পড়ে তখন অন্যরা নাঈমকে দূরে সরিয়ে নেয়। গ্লাস ভাঙা একটু কমতেই নাঈম দেখে একটি পাইপ ফেটে পানি বের হয়ে যাচ্ছে। তখন পাশ থেকেই একটি পলিথিন কুড়িয়ে তা দিয়ে পাইপের ছিদ্র অংশটি চেপে ধরে ।
নাঈম ইসলাম জানায়, রাতে বাসায় যাওয়ার পর তার নানী ও এলাকার অন্যরা সবাই তাকে বাহবা দিয়েছে। সবাই জড়িয়ে ধরেছে। বড় হয়ে কী হতে চাও- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নাঈম খুব সহজ ভঙ্গিতে জানায়, বড় হয়ে সে পুলিশ অফিসার হতে চায়।
নাঈম পুলিশ হতে চায় শুনে সাকিন নামের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অবশ্যই ভালো লাগছে। সে গতকাল (বৃহস্পতিবার) যা করেছে, যা দেখিয়েছে, তা সাহসের। আশা করি, তার আশা পূরণ হবে। আমাদের সহযোগিতা থাকবে। এ দিকে ব্যতিক্রমী শিশু নাঈম ইসলামকে পাঁচ হাজার ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওমর ফারুক সামি। পাশাপাশি তার পড়ালেখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানালেন তিনি। সিলেটের গোপালগঞ্জ উপজেলার ওমর ফারুক সামি বলেন, ?আমি নাঈমের কাজে খুবই খুশি হয়েছি। নাঈম খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করছে, সে পুলিশ অফিসার হতে চায়। তার ইচ্ছেপূরণ করতে আজ থেকে তার পড়াশুনার দায়িত্ব নিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে তার উপহারের পাঁচ হাজার ডলারও প্রদান করব।
এ ব্যাপারে নাঈমের পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলাপ হয়েছে বলেও জানান এই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।