ব্রেক্সিট প্রসঙ্গ

এমপিদের ভোটে মে’র খসড়া চুক্তি ফের বাতিল

ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ’র সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র করা খসড়া চুক্তিটি তৃতীয়বারের মতো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও গতকাল শুক্রবার হাউস অব কমন্সে তার খসড়া চুক্তিটি ৫৮ ভোটে বাতিল হয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় ২৩০ ও দ্বিতীয় দফায় ১৪৯ ভোটে এই খসড়া চুক্তি প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন ব্রিটিশ এমপিরা। ব্রেক্সিট গণভোটের রায় অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার ইইউ থেকে ব্রিটেনের আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোন্ প্রক্রিয়ায় এই ব্রেক্সিট হবে সে বিষয়ে ব্রিটেনের এমপিরা এখনো একক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। ব্রিটেনের সময় চাওয়ার প্রেক্ষিতে ইইউ ২৯ মার্চের পরিবর্তে ১২ এপ্রিল বেক্সিটের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে ইইউ জানায়, এক সপ্তাহের মধ্যে মে’র চুক্তি পার্লামেন্টে অনুমোদন পেলে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা ২২ মে পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। কিন্তু তৃতীয় দফায়ও মে’র খসড়া অনুমোদন না পাওয়ায় এবং এমপিরা বিকল্প কোনো প্রস্তাব দিতে ব্যর্থ হলে ১২ এপ্রিলেই কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট সম্পন্ন হতে পারে। মে’র খসড়া চুক্তি নাকচ হওয়ায় আগামী ১০ এপ্রিল ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। খবর:বিবিসি ও সিএনএনের।

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র দলের এমপিরা বলেছিলেন, তিনি পদত্যাগ করলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তারা ব্রেক্সিট খসড়া চুক্তি অনুমোদনে ভোট দেবেন। থেরেসা মে পদত্যাগে সম্মতি দিলে তার দলের কিছু এমপি ভোট দিতে রাজি হয়। কিন্তু ‘ব্যাকবেঞ্চার’ হিসেবে পরিচিত তার দলের কয়েকজন এমপি চুক্তির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। অন্যদিকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের দল ডিইউপি জানায়, তারা মে’র খসড়া চুক্তির পক্ষে ভোট দেবে না। এ রকম অনিশ্চয়তা নিয়ে গতকাল পার্লামেন্টে এই খসড়া চুক্তির ওপর তৃতীয় দফায় ভোটাভুটি হয়। ভোটে মে’র খসড়া চুক্তির পক্ষে ভোট পড়েছে ২৮৬টি অন্যদিকে বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ৩৪৪টি। ভোটের পর মে বলেন, এর প্রভাব খুবই গুরুতর। এই ব্যর্থতার জন্য ব্রিটেনকে ১২ এপ্রিল ইইউ ছাড়তে হতে পারে। এছাড়া ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ এড়াতে একটি আইন করার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাওয়া যাবে না।