প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দুস্থ ব্যক্তিদের কাছে আইনগত সেবা পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় ও মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান। সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আজ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট টাইটাস হিল্লোল রেমা।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আগে প্রতিটি জেলায় প্রখ্যাত আইনজীবীরা ফৌজদারি মামলায় এপিপি হিসেবে নিয়োগ পেতেন। এই নীতি বেশ কিছু সময় চলার পর এখন আর দেখা যাচ্ছে না।
লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবীদের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রথিতযশা আইনজীবীদের নিয়োজিত থাকার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর ফলে মামালায় ভারসাম্য থাকে না। তিনি বলেন, এক পক্ষে প্রথিতযশা ও অভিজ্ঞরা থাকেন আর অন্য পক্ষে মোটামুটি প্রখ্যাত না, অনভিজ্ঞরা থাকেন। এর ফলে সরকারি তহবিল থেকে টাকা চলে যাচ্ছে, অথচ দুঃস্থরা প্রকৃতপক্ষে বিচার পাচ্ছে না। এ বিষয়টি প্রধান বিচারপতি নিরসনে সবার সহযোগিতা চান।
সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে শুনে আসছি আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং আইনের আশ্রয় সমানভাবে পাওয়ার অধিকারী-এটি কত দূর দিতে পেরেছি এ প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি বলব, পারিনি। এটি আমাদের অপারগতা।’
গত ২৬ জানুয়ারি গাজীপুরের কিশোর ও কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, সেখানে আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও একটু বাড়াবাড়ি হচ্ছে। দেখলাম, কেউ কেউ আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার পরীক্ষার্থী, তাদের যেন জামিনের ব্যবস্থা করা হয় তা বলেছি। সেখানেও মানুষ আইন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএন