নানা প্রয়োজনে মানুষকে প্রতিদিন লেনদেন করতে হয়। লেনদেনের ধারায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে। নগদ টাকার পরিবর্তে মানুষ প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনে ঝুঁকছে। দেশের ৯ কোটি মানুষ এখন ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় চলে এসেছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করা এ গ্রাহকদের অনেকেই ইন্টারনেট ভিত্তিক লেনদেনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। কারণ, ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানো কিংবা যানজট ঠেলে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। ঘরে কিংবা অফিসে বসেই লেনদেন করা যায়। কেনাকাটাতেও নগদ টাকার পরিবর্তে ইলেকট্রনিক পেমেন্টের সুযোগ নিচ্ছে মানুষ।
ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি’র চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখন ব্যাংকে যেতে চান না। তারা তাদের ব্যবহূত মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই ফান্ড ট্রান্সফার করে দেন। বর্তমানে মানুষ ঝামেলাবিহীনভাবে বিল পরিশোধের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। এতে খরচ, সময় উভয় বাঁচে। গত কয়েক বছরে লেনদেনের ধারায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিনিয়ত এ পরিবর্তন হচ্ছে। একসময়ের জনপ্রিয় এটিএমও ধীরে ধীরে বাতিল হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
দি সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, সিটি ব্যাংকের ১৫ শতাংশ গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাংকিং করে। সময়ের পরিবর্তনে এটা আরো বাড়বে। ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি । তিনি বলেন, ব্যাংকের শাখায় গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রাহকদের অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। আবার গ্রাহকদের বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকের যেতে পরিবহন খরচসহ নানান ঝামেলা পোহাতে হয়। সে হিসাবে ক্যাশলেস ট্রানজেকশনে বিল বেশি মনে হলেও সুবিধা বেশি।
ঝামেলাবিহীন ইন্টারনেট ব্যাংকিং প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরে ১১ হাজার ৩৭৩টি লেনদেনের বিপরীতে ২১ কোটি টাকা পরিশোধ হয়েছে আন্তঃব্যাংক ইন্টারনেট ব্যাংকিং চ্যানেলে। আগের আগস্টের তুলনায় যা প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের (এনপিএস) আওতায় এটিএম ও পয়েন্ট অব সেলস বা পসের লেনদেন কমেছে। এটিএমে লেনদেন আগের মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং পসে লেনদেন ১৫ শতাংশ কমেছে। দেশে এখন ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ আর ডেবিট কার্ডের গ্রাহক প্রায় দেড় কোটি। এসব কার্ডধারী এনপিএসের আওতায় এটিএম ও পসের মাধ্যমে লেনদেন করছে।
ইন্টারনেট ব্যাংকিং তহবিল স্থানান্তর বা আইবিএফটি পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্যাংক কর্মকর্তার কোনো ধরনের সহযোগিতা না নিয়ে গ্রাহক নিজেই আরেক ব্যাংকের গ্রাহককে পরিশোধ করতে পারেন। ফলে শাখায় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না। যদিও রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট বা আরটিজিএস, বাংলাদেশ অটোমেটেড চেক ক্লিয়ারিং হাউস (বিএসিএইচ) এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটিএনের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেশ আগ থেকে ইলেকট্রনিক লেনদেন হচ্ছে। তবে এসব ক্ষেত্রে লেনদেন করতে ব্যাংকারের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। আইবিএফটি পদ্ধতিতে গ্রাহক নিজেই তহবিল স্থানান্তর করতে পারেন। এর বাইরে ডিজিটাল ওয়ালেট, ডেবিট ও ক্রেটিড কার্ড প্রভৃতির ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে। ইন্টারনেট ভিত্তিক লেনদেনের সুবিধাজনক হলেও এতে কিছু ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।