দোকান থেকে আটা নিয়ে আসতে বলেছিলেন মা। কিন্তু আটা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে তা মাটিতে পড়ে যাওয়ায় মেয়ের গায়ে আগুন লাগিয়ে দিলেন মা-ই!
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তেলাঙ্গানার শাদনগরে। রাধিকা নামে ১০ বছরের ওই শিশুর শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। সে আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযুক্ত ওই মায়ের নাম স্বরূপা। তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ।
স্বরূপার বাড়ি রঙ্গা রেড্ডি জেলার ফারুকনগর মণ্ডলে। রাধিকা তার প্রথম সন্তান। রাধিকার এক ভাই ও এক বোন আছে। সে স্থানীয় সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। স্বরূপাদের চার একর জমি আছে। তবে তিনি ও তার স্বামী দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কাজ সেরে বাড়ি ফেরেন স্বরূপা। রাধিকাকে দোকান থেকে আটা নিয়ে আসতে বলেন। দোকান থেকে আটা নিয়ে আসার পথে কিছুটা পড়ে যায়। তা দেখতে পেয়ে স্বরূপা মেয়েকে মারধর শুরু করেন। এরপর মেয়ের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেন। শেষমেশ জ্বলন্ত উনুন থেকে কাঠের টুকরো বের করে মেয়ের গায়ে ছুঁড়ে দেন।
রাধিকার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। তারাই অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। রাধিকাকে প্রথমে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাধিকার অবস্থা সংকটজনক। পুলিশ তার বয়ান নিয়েছে। স্বরূপার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয়দের দাবি, আর্থিক সংকটে পড়ে স্বরূপা ইতোমধ্যে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেক্ষেত্রে বেঁচে গেলেও মানসিক অবসাদে ভুগতেন তিনি। বাড়িতে কোনো ঝামেলা হলেই আত্মহত্যা করার হুমকি দিতেন।
ইত্তেফাক/এএম