নওগাঁয় এক সপ্তাহে আবারো বেড়েছে চালের দাম

খাদ্যে উদ্বৃত্ত নওগাঁয় গত এক সপ্তাহে আবারো বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। এবার প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১ থেকে ২ টাকা করে। চালের দরবৃদ্ধির জন্য মিলারদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

এদিকে মিল মালিকদের দাবি, বাজারে ধানের সংকট থাকায় ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ জাতের ৩৫ থেকে ৩৬, বিআর-৪৯ জাতের চালের দাম ৪০ টাকা, পাইজাম ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, খাটো দশ ৪২ টাকা ও জিরাশাইল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব চালের প্রতিকেজিতে দাম বেড়েছে ১ থেকে ২ টাকা করে। চলতি সপ্তাহে প্রতি কেজি বিআর-৪৯ জাতের চালের দাম ৪২ টাকা, স্বর্ণা-৫ জাতের ৩৬ থেকে ৩৭, খাটো দশ ৪৪ টাকা, পাইজাম ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা ও জিরাশাইল ৪৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত এ জেলায় চালের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ফলে খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশের ধান-চালের বড় মোকাম নওগাঁ। জেলাতে প্রায় ১২শ’টি মিল আছে। এর মধ্যে অটোমেটিক ৫৫টি এবং বাঁকিগুলো হাসকিং মিল। জেলা থেকে প্রতি বছর প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হয়। জেলার চাহিদা ৪ লাখ মেট্রিকটন চাল। বাকি চাল সারাদেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

নওগাঁ পৌর খুচরা বাজারে কথা হয় দিন মজুর আমজাদ হোসেন, সিদ্দিকসহ আরো অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, আবারও গত সপ্তাহে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।

একই প্রতিক্রিয়া জানান ভ্যান চালক জব্বার। তিনি বলেন, আমার পরিবারে মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ৬ জন। সারাদিন রিকশা চালিয়ে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা রোজগার হয়। চাল কিনতেই যদি সব টাকা ফুরিয়ে যায় তবে আলু, তেল, পেঁয়াজ, মরিচসহ অন্যান্য জিনিস কিনব কী করে?

চালের দাম বাড়ার পেছনে মিল মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উত্তম সরকার জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে খুচরায়ও বাড়ে। দাম বাড়ার মূলে রয়েছেন মিল মালিকরা। তারাই সিন্ডিকেট করে হঠাৎ চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

পৌর ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, এ সপ্তাহে চালের মণপ্রতি দাম ৬০-৮০ টাকা বেড়েছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও চালের দর বেড়েছে। এক্ষেত্রে মিল মালিকদের সিন্ডিকেটই দায়ী।

তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, আমন ধান কেনাবেচা শুরু হয় অগ্রাহয়ণ ও পৌষে। সে সময় ধানের বাজার কম থাকলেও বর্তমানে প্রতি মণ ধানে ১০০-১২০ টাকা করে দাম বেড়েছে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবে চালের দামও বেড়ে গেছে।

ইত্তেফাক/এএন