নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজারে মাদকের প্রতিবাদ করায় ৫ সন্তানের জননী আরজু বেগমকে (৪০) মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনার পর পুলিশ সাতজনকে আটক করেছে। নিহত আরজু বেগম টানবাজার র্যালিবাগান এলাকার আক্তার হোসেনের স্ত্রী। নিহত আরজু বেগমের মেয়ে লাকী জানান, দীর্ঘদিন যাবত্ মাদক নিয়ে প্রতিবাদ করায় অ্যাডভোকেট হামিদা আক্তার লিজা ও রমজানের লোকজনদের সঙ্গে আমাদের শত্রুতা তৈরি হয়। যতদিন মাদকের ব্যাপারে আমরা কোনো প্রতিবাদ করিনি ততদিন আমরা তাদের বন্ধু ছিলাম। কিন্তু মাদক নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমার পুরো পরিবার তাদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। র্যালিবাগান এলাকায় মাদকবিরোধী মিছিল করে আরজু বেগম ও তার লোকজন। ওই ঘটনার জের ধরে শুক্রবার দুপুরে মাদক ব্যবসায়ী রমজান ও হামিদা গংরা প্রতিবাদকারীদের উপর হামলা চালায়। এ সময় আরজু বেগমকে প্রথমে এলোপাতাড়িভাবে কিল ঘুষি মেরে আহত এবং বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সে সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, র্যালিবাগান এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট হামিদা আক্তার লিজা যাতে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের জামিন না করিয়ে দেয় সেজন্য এলাকাবাসী দাবি জানান। আর এ নিয়ে হামিদা আক্তার লিজার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বগবিতণ্ডা হয়। ওই সময় হামিদার ভাই বিল্লাল ও এক বোন মিলে ওই আরজু বেগমকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলে। আরেকজন আরজু বেগমের শরীরে পানি ঢেলে দেয়। এতে আরজু বেগম আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।