যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে উখিয়ার উপকূলীয় জনপদ ইনানীর ১০ হাজার হেক্টর বনভূমিতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় উদ্যান প্রকল্প বাস্তবায়নের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও সরকারি স্বীকৃতি পাচ্ছে না। ২০০৯ সালে বনবিভাগ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘শেড’ ইনানীর জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে ন্যাড়া পাহাড়কে সবুজে আচ্ছাদিত করলেও জাতীয় উদ্যানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়নি।
২০০৮ সাল পর্যন্ত ইনানী বনাঞ্চলে ৬০ শতাংশ বনসম্পদ উজাড় হয়ে যায়। বনভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বসতি স্থাপন ও কৃষিজমিতে রূপান্তর, নির্বিচারে গাছ কাটা, পাহাড় কাটা অবাধে বন্য পশুপ্রাণী শিকার হওয়ার কারণে জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। ২০০৯ সালে বনবিভাগ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরণ্যক ফাউন্ডেশন ‘শেড’ এবং এলাকার বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে “বন বাঁচায় আমাদেরকে, আমরা বাঁচাব বনকে” স্লোগানে ইনানী বন উন্নয়নে ইনানী বন রক্ষা সহায়ক কমিটি নামে কাজ শুরু করে।
ইনানী বনের ভিতর ও চারপাশে বসবাসরত ২৪টি গ্রামভিত্তিক বন সংরক্ষণ ফোরাম গঠন করা হয়। ৩৮০ জন পুরুষ, ২০ নারীসহ ৪০০ জনকে নিয়ে ১০টি বনবিট ভিত্তিক ইনানী বন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। ১৩৬৮ পরিবারকে বিভিন্ন বিকল্প জীবিকায়নে সহায়তা ও ঘূর্ণায়মান তহবিল ভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে দলভিত্তিক ২৪টি দলকে ৪০ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা এককালীন সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ইনানী বনের কাঠের উপর চাপ কমাতে এ যাবত্ ১২৬৩টি উন্নত চুলা ওইসব পরিবারকে দেওয়া হয়। ইনানী বনরক্ষা পাহারাদলের সদস্য ছৈয়দ নূর জানান, ২০০৮ সালের তুলনায় বর্তমানে বনে জ্বালানি সংগ্রহের চাপ কমেছে ৮০ শতাংশ। বনের কাঠ চুরি কমে যাওয়ায় গাছ-গাছালিতে ভরপুর ইনানীর বনে জীববৈচিত্র্য রক্ষা হয়েছে।
ইনানীর প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় উদ্যান সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও ইনানী বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম হোসেন জানান, এককালের বননির্ভর জনগোষ্ঠী এককালীন প্রাপ্ত টাকায় বিভিন্ন ব্যবসা, শাক-সবজি উত্পাদন, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির খামার ও মত্স্যচাষ করে এখন আত্মনির্ভরশীল। যে কারণে পাহাড় কাটা, বনসম্পদ ধ্বংস, অবৈধ বসতি স্থাপন, পাহাড় কেটে শ্রেণি পরিবর্তন অনেকাংশে কমে গেছে। ইনানীর ১০ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল এখন জাতীয় উদ্যান ঘোষণার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
ইনানী বন রক্ষা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী জানান, উখিয়ার পর্যটন শিল্পে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়ন করতে হবে।