স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস যেন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে সে জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সরঞ্জামগুলো এক জায়গায় না রেখে রাজধানী ঢাকা শহরের চার জায়গায় রাখা হবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যেন সরঞ্জামগুলো নিয়ে খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে পারে। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আরো বাড়ানো হবে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে এমথ্রি থিয়েটারে ‘বঙ্গবন্ধু ইন্টার ইউনিভার্সিটি ২০১৯ স্পোর্টস ক্যাম্প’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ফায়ার সার্ভিসকে আরো উন্নত করার চেষ্টা করছি। রাজধানী ঢাকাকে ‘সেফ সিটি’তে পরিণত করব। ভবিষ্যতে যে কোনো দুর্ঘটনা ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যামেরার মাধ্যমে ঘটনাস্থলে তাত্ক্ষণিকভাবে সমস্যা চিহ্নিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেখানে পুলিশের দরকার সেখানে পুলিশ যাবে, যেখানে অ্যামু্বলেন্সের দরকার সেখানে অ্যাম্বুলেন্স যাবে। দরকার হলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও যাবে।
প্রধানমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বিদেশ থেকে অগ্নিনির্বাপণের নতুন নতুন সরঞ্জাম আনছি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখন আগের চেয়ে প্রশিক্ষিত হয়ে কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আমরা প্রায় ৬০ হাজার ভলান্টিয়ার তৈরি করেছি। ভূমিকম্প বা যে কোনো দুর্ঘটনায় তারা যেন উদ্ধারকাজ করতে পারে। চুড়িহাট্টায় ভলান্টিয়াররা কাজ করেছেন।
বনানীর এফআর টাওয়ারে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে দেরি হওয়া বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটা ব্যস্ততম সময়ে আগুন লেগেছে। ঢাকা শহরে সবসময়ই যানজট লেগে থাকে। ফায়ার সার্ভিসের যেসব গাড়ি কাছাকাছি ছিল, সেগুলো তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গেছে। যানজটের জন্য তাদের পৌঁছাতে সামান্য দেরি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা অগ্নিনির্বাপণের দায়িত্বে ছিলেন, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। তাদের কোনো ত্রুটি ছিল না।