রাজীব গান্ধী গুপ্তহত্যার ৫ বছর আগেই সিআইএ’র পূর্বাভাস!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী আততায়ীর হামলায় নিহত হওয়ার পাঁচ বছর আগে এই সংক্রান্ত সুগভীর ও বিবৃত প্রতিবেদন তৈরি করেছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ১৯৮৬ সালে প্রস্তুত করা সেই ‘ইন্ডিয়া আফটার রাজীব’ শীর্ষক ২৩ পৃষ্ঠার ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়, যদি রাজীব গুপ্তহত্যার শিকার হন বা রাজনীতি থেকে আকস্মিক সরে যান তাহলে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

১৯৯১ সালে শ্রীলঙ্কার তামিল বিদ্রোহীদের আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন রাজীব। সম্প্রতি ফ্রিডম অব ইনফরমেশন অ্যাক্টের আওতায় গোপনীয় সেই প্রতিবেদন উন্মুক্ত করেছে সিআইএ। প্রতিবেদনটির অনেক অংশ কালি দিয়ে ঢেকে প্রকাশ করা হয়েছে। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সিআইএর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা প্রতিবেদনের সবটা শিরোনামও প্রকাশিত করা হয়নি।

প্রতিবেদনটির প্রথম বাক্যে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ১৯৮৯ সালে তার সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন। রাজীব গান্ধী নিহত হলে সমসাময়িক স্নায়ুযুদ্ধকালীন বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কী পরিবর্তন আসতে পারে সেটা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে যেসব গ্রুপের পক্ষ থেকে রাজীবের জীবনে হুমকি আসতে পারে এবং এরপরে তারপরে ভারতে কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে সেটির একটা পূর্বাভাস দেয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে বলা হয়, যদি গান্ধী শিখ অথবা কাশ্মিরি উগ্রবাদীদের হাতে নিহত হন তাহলে উত্তর ভারতে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি হবে সেটি সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী ব্যবহার করেও দমানো যাবে না। শুধু তাই নয় রাজীব নিহত হলে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন নরসিমা রাও সেটাও উল্লেখ করা হয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে রাজীব নিহত হওয়ার পর ১৯৯১ সালে নরসিমাই হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিবেদনটির অনেক গুরুত্বপুর্ণ অংশ মুছে ফেলায় নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি সেখানে শ্রীলঙ্কান তামিল উগ্রবাদীদের কথা লেখা ছিল না। উন্মুক্ত অংশে শ্রীলঙ্কার সরকারের সঙ্গে তামিল বিদ্রোহীদের সংকট নিরসেনে রাজীব গান্ধীর মধ্যস্থতার কথা বলা হয়। এনডিটিভি।

ইত্তেফাক/এসএসএ