শিল্পী সমিতি নির্বাচন: এফডিসির ধারাবদলের প্রত্যাশায়

 
সময় ঘনিয়ে আসছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচন। কিছুদিন আগেই এ উপলক্ষে এফডিসি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক তারকা মিলনমেলা। যদিও সেটি ছিল একটি প্যানেলের পক্ষ থেকে। মিশা সওদাগর ও জায়েদ প্যানেলের উদ্যোগে ছিল এই আয়োজন। অন্যদিকে ওমর সানী ও ফেরদৌস প্যানেলও তাদের সক্রিয় অবস্থান নিয়ে এগুচ্ছে।
 
প্রতি দু-বছর পরপর এই নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই সমিতির ভেতরে একই উত্তাপ দেখা গেলেও এবারে সর্বাধিক সংখ্যক সিনিয়র অভিনয় শিল্পীরা আগ্রহী হয়েছেন নির্বাচনের ব্যাপারে। তাই ফলাফল যাই হোক না কেন, তারকাদের সম্মিলনটাই আপাতত এবারের নির্বাচনী উদ্যোগের বড় সাফল্য। অনেকের ধারণা এই সম্মিলনের প্রভাব নির্বাচন পরবর্তীকালে থাকলেই চেহারা বদলে যাবে এফডিসির।
 
তবে শুধু শিল্পী সমিতির এই সম্মিলনই নয়, সকলে প্রত্যাশা করছেন পরিচালক ও প্রযোজক সমিতির ভেতরেও এই জোট অব্যাহত থাকুক।
 
তাই বদলে যাচ্ছে এফডিসি। হয়তো মূলধারার নির্মাতা-কুশলীরা একীভূত হয়েই বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত সূচনা করবে। এরই ভেতরে পরিচালক সমিতির নব নির্বাচিত কমিটি তাদের ইশতেহার অনুযায়ী কাজ শুরু করেছেন। তাই সময়ের আবহাওয়া অনেকটাই পরিবর্তন হতে পারে এবার।
 
শিল্পী সমিতির নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ও তাদের পূর্ববর্তী কার্যক্রমও উল্লেখ করার মতো।
 
মিশা সওদাগর এবারের নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘নির্বাচনে হার-জিত্ থাকবেই। সেটি নিয়ে ভাবছি না। আমাদের সিনিয়র যারা আছেন তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছি। আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে অবশ্যই নিজের দায়িত্ব থেকে যতটুকু করা সম্ভব আমি করবো। এটি শুধু নির্বাচন করছি বলে বলছি না। এর আগে সবাই আমাকে দেখেছেন যেকোনো প্রতিবাদ বা কর্মসূচিতে আমার অগ্রগতি কতটা ছিল।’
 
এছাড়াও অন্য প্যানেলের সভাপতি পদের জন্য লড়াই করবেন ওমর সানী। এখনো বড় কোনো মিলনমেলার ঘোষণায় তারা না গেলেও গত রবিবার তার বাসায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক মিলনমেলার আয়োজন করেন, যেখান থেকে নির্বাচন প্রচারণা শুরু করেছেন। নির্বাচনী কার্যক্রমের সক্রিয়তা দুই প্যানেল থেকেই। সমসাময়িক যে বিষয়গুলো নিয়ে এখন কাজ করার সময় এসেছে সেগুলোর পরিবর্তন ও উন্নয়ন নিয়ে ভাবছে দুটি প্যানেলই। তাই ভরসার সুর পাওয়া যাচ্ছে সবার কাছ থেকেই। 
 
ওমর সানী বলেন, ‘সবার আগে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ, তারপর নীতিমালা। আমাদের প্যানেল যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে সবার আগে। আমরা চাই নীতিমালার বাইরে গিয়ে যেন কেউ চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে না পারে।’ 
 
নির্বাচনের প্রচারণার কাজ এরিমধ্যে শুরু করে দিলেও এখনো নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি বর্তমানে দায়িত্বে থাকা প্যানেলের মেয়াদ শেষ হবে। এরপর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার কথা বলছে সংশ্লিষ্টরা। তবে আগামী মাসেই নির্বাচন হবে কি-না সেই শঙ্কা রয়েছে এখনো। তারিখ নির্ধারিত হলেই দুই প্যানেল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার কথা জানান।
 
ইত্তেফাক/এমএআর