বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসনের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সময় তারা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সিনেটর জনসন বাজেট, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও পরিবহন বিষয়ক ইউএস সিনেট কমিটির সদস্য।
বুধবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের সিনেটরের সঙ্গে এক সপ্তাহে এটি রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিনের দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে তিনি ২৪ জানুয়ারি মিসিসিপি থেকে নির্বাচিত সিনেটর রোজার ওইকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধার দাবি জানান।
মঙ্গলবারের বৈঠকে রাষ্ট্রদূত সিনেটর জনসনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিকাশমান অর্থনীতি সম্পর্কে ধারণা দেন।
সহিংস চরমপন্থা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী এবং ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বর্বর হত্যাকাণ্ডসহ তার পরিবারের সংগ্রামের নির্মম অতীত এবং তার পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও বিশ্ব থেকে সকল ধরনের চরমপন্থা ও সন্ত্রাস নির্মূলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৪০ লাখের বেশি নারী শ্রমিক সমাজে দারিদ্র্য ও চরম পন্থা নিরসনে ব্যাপক অবদান রাখছেন।
সিনেটরের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, গত বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল রেকর্ড সাত শতাংশ, যা চলতি বছর সাত দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। বাংলাদেশের রফতানি আরো বৃদ্ধির জন্য রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক মুক্ত কোটা মুক্ত (ডিএফকিউএফ) সুবিধা চেয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত সিনেটরকে বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পোন্নত (এলডিসি) ৪৮টি দেশের মধ্যে মাত্র ৩৪টি আফ্রিকান দেশের জন্য ডিএফকিউএফ সুবিধা প্রদান করেছে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবগুলো দেশকে এই সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশসহ সকল এলডিসি দেশগুলোর জন্য ডিএফকিউএফ সুবিধা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
সার্বিক পরিস্থিতির বিস্তারিত ধারণা দেয়ার জন্য সিনেটর জনসন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান। এবং অবাধা বাণিজ্যের প্রতি সমর্থন জানান।
কংগ্রেসম্যান ক্যারোল ই. ফস্টার ও দূতাবাসের মিনিস্টার তওফিক হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।বাসস
ইত্তেফাক/এএসএমইউ/ইউবি