জানুয়ারি মাসে জাপানে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল ফেস্টিভালে অংশ নেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা ফুটবল দল। দেশের বাইরে এটাই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের প্রথম কোনো সফর। ফেস্টিভালে অংশ নিয়ে মোট সাতটি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের কিশোরীরা। তার মধ্যে জয় পায় ৪টিতে, ড্র ১টিতে ও হার ২টিতে।
শুধু ভালো ফলই নয়, অনেক অভিজ্ঞতার এক সফর শেষ করে এসেছে বাংলাদেশ দল। আর সেই অভিজ্ঞতার কথাই বুধবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন, টেকনিক্যাল এন্ড স্ট্রাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলি, অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকার, ফরোয়ার্ড সিরাত জাহান স্বপ্না ও মনিকা চাকমা।
অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে গোলাম রাব্বানী ছোটন বলেন, ‘অনেক অভিজ্ঞতার এক সফর ছিল এটি। জাপানে আমরা বিশ্বমানের একটা একাডেমিতে ছিলাম। আধুনিক ফুটবলের সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা সেখানে ছিল। সেখানে মেয়েরা শিখেছে কিভাবে নিজে নিজে নিয়ে খাবার খেতে হয়। কিভাবে নিজেদের খাবার প্লেটটি নিজেদের পরিস্কার করতে হয়। ধুতে হয়। ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে মেয়েরা খেলেছে। অনেক পেশাদার লিগের খেলোয়াড়রা সেখানে ছিল। তাদের সঙ্গে খেলেছে। বিভিন্ন দলের অনুশীলন দেখেছে। জাপানের একাডেমিগুলোতে সর্বাধুনিক সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত ছেলে-মেয়েরা অনুশীলন করে। এমনকী স্কুলের ছেলেমেয়েরাও সেখানে অনুশীলন করে। আমরা সেখানে গিয়ে যতটুকু সময় পেয়েছি তা পুরোপুরিভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। অনুশীলন করেছি, অন্যদের অনুশীলন দেখেছি, এক মাঠ থেকে অন্য মাঠে ঘুরে ঘুরে খেলেছি। ভিন্ন একটি পরিবেশেও মেয়েরা তাদের সেরাটা দিয়ে খেলেছে এবং আমি মনে করি ভালো খেলেছে। সবকিছু মিলিয়ে এই সফরটা আমাদের জন্য বিরাট একটা সুযোগ ছিল এবং আমি মনে করি আমরা সেটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি।’
অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকার বলেন, ‘সবকিছু ছিল স্বপ্নের মতো। আমরা সেখানে নিজেরাই নিজেদের খাবার সংগ্রহ করেছি। নিজেদের প্লেট নিজেরাই খাওয়ার পরে পরিস্কার করেছি। লম্বা ভ্রমণ করে আমরা সেখানে পৌঁছাই। ফেস্টিভালের আগে সাকাই একাডেমির বিপক্ষে আমাদের ম্যাচ ছিল। আগের ম্যাচে থাইল্যান্ড দলকে তারা ১০-০ গোলে হারিয়েছিল। এটা শুনে আমরা কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের স্যাররা আমাদের ভয় না পেয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে বলেন। আমরা সেভাবেই খেলে ২-১ ব্যবধানে জয় পাই। সেখানে অনেক ঠাণ্ডা ছিল। তার মধ্যেও আমরা খেলেছি। খেলতে খারাপ লাগেনি। কারণ, আমরা চেয়েছি দেশের জন্য কিছু করতে এবং সেরাটা দিয়ে খেলতে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। যা এই সফরে না গেলে সম্ভব হতো না। সে জন্য ধন্যবাদ দিব ওয়ালটন গ্রুপকে। তারা আমাদের এমন একটি সফরে সহায়তা করেছে।’
বাফুফের সদস্য ও নারী ফুটবল শাখার চেয়ারম্যান মিস মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, ‘আপনারা জানেন জাপানে মেয়েরা অনেক ভালো খেলেছে। এটা তাদের জন্য বিরাট অভিজ্ঞতা। আমরা সেখানে ৪টি ম্যাচ জিতেছি। ২টিতে ড্র করেছি এবং হেরেছি ১টিতে। বিভিন্ন দলে জাপানের জাতীয় দলের খেলোয়াড় ছাড়াও বিভিন্ন লিগের পেশাদার খেলোয়াড়রাও ছিল। তাদের সঙ্গে মেয়েরা ভালো খেলেছে। স্বপ্নার খেলার গতি দেখে সেখানকার কেউ কেউ তো বলেই ফেলেছে এই খেলোয়াড় বাংলাদেশের নয়।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সচিবালয়ে ব্যবহারের জন্য ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন দেওয়া হয়।
উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সদস্য ও উইমেন্স শাখার চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ, জাপান সফরকারী বাংলাদেশ দলকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার বিভাগের প্রধান এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ অন্যান্যরা।
ইত্তেফাক/এমএইচ