শাহেদ আলী। টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মঞ্চেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার সাম্প্রতিক ব্যস্ততা, টিভি নাটকের বর্তমান অবস্থাসহ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
চলতি সময়ের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—
ছোটপর্দায় বেশকিছু ধারাবাহিক নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ততা চলছে। এরমধ্যে ‘হাউজওয়াইফ’, ‘টক্কর’, ‘সিনেমাওয়ালা’, ‘দহন’, ‘বৃষ্টিদের বাড়ি’ নাটকগুলো
এনটিভি, মাছরাঙ্গা, এটিএন বাংলাসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে।
চলচ্চিত্র ব্যস্ততা নিয়ে বলুন—
বড়পর্দায় শুটিংয়ের কাজ শেষ করলাম ‘স্বপ্নজাল’ আর ‘হালদা’ চলচ্চিত্রের। শুটিং চলছে ‘পাষাণ’ আর ‘অর্পিতা’র। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘খাঁচা’ চলচ্চিত্রটি। এছাড়াও যৌথ প্রযোজনার ‘বস টু’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি।
আপনি প্রাচ্যনাটের অন্যতম একজন সদস্য। থিয়েটার নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?
প্রথমে মঞ্চে নাটক দেখার আগ্রহ এবং আগ্রহ থেকে সেখানে কাজ করা শুরু। প্রতিমাসেই আমাদের বেশকিছু নাটকের প্রদর্শনী চলছে। এরমধ্যে ‘সাকার্স সাকার্স’-এ ‘ম্যান ফর অল সিজনস’, ‘রাজা এবং অন্যান্য’, ‘কইন্যা’ উল্লেখযোগ্য। গত মাসে থিয়েটারের নাটকের শো করলাম। সময় পেলেই চেষ্টা করি।
বর্তমান সময়ের বাংলা নাটক নিয়ে আপনার অনুধাবন কী?
কেউ সঠিক জায়গা শনাক্ত করে কাজ করছে না। সবাই এখন কথা বলছে ডাবিং সিরিয়াল নিয়ে, কিন্তু এটা আগেও ছিল। বর্তমানে আমাদের নাটকগুলো অনেক বেশি সস্তা মানের হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পড়ে যাচ্ছে মান, হারাচ্ছে উত্কর্ষতা। চ্যানেলগুলোর অসম প্রতিযোগিতার কারণেও নাটকের ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের ভেতরে দেশপ্রেমের অভাব পরিলক্ষিত। আমরা বাইরের চ্যানেলের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছি। ব্যাপারি মানসিকতায় এখন নাটক নির্মিত হয়। যেটা অবশ্যই পরিহার করা উচিত। নাটকের মানের দিকে নজর দিতে হবে। দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি বেশি যত্নবান হতে হবে। বিদেশি সংস্কৃতি অনুশীলনের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। তবেই বাংলা নাটক আবারো আগের মতো দর্শকপ্রিয়তা পাবে।
যৌথ প্রযোজনা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
বাণিজ্যের জন্য ওরা আমাদের সিনেমার বাজারকে টার্গেট করেছে। যার ফলে একটা সুষ্ঠু নীতিমালার দরকার। সঠিক নীতিমালা না থাকার সুযোগটাই ওরা কাজে লাগাচ্ছে শুধুমাত্র যৌথ চলচ্চিত্রের ব্যানারে। তাই বাণিজ্যের বাইরে যদি কোনো ভালো উদ্যোগ নিয়ে কাজ হয় তবে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র গ্রহণযোগ্য।
সিনেমা হল নিয়ে অনেকদিন ধরেই আলোচনা চলছে। কিন্তু এর কোনো ফল কি পাওয়া গেছে মনে করেন?
ফল যে একবারে পাওয়া যায়নি তা কিন্তু না। এখন অনেকেই সিনেমা হল নিয়ে ভাবছেন।
ইত্তেফাক/এমএআর