মানবিক কারণে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও তাদের কর্মকাণ্ড বনজ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করছে। ১১ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় দেড় হাজার একর বনভূমিতে আশ্রয় নিয়েছে।
এসব রোহিঙ্গারা তাদের সুবিধার্থে নির্বিচারে পাহাড় কেটে শ্রেণী পরিবর্তন করায় প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।
বনরেঞ্জ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পর্যায়ের সরকারি লোকজন জানান, বনজ সম্পদ ধংস ও পাহাড় কাটা থামাতে গিয়ে বনকর্মীরা রোহিঙ্গাদের রোষানলের শিকার হচ্ছেন।
যত্রতত্র বনভূমি দখল করে নির্মিত ঝুঁপড়ি উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে রোহিঙ্গারা বনকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় তারা ইট, পাটকেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে ৫ বনকর্মী আহত হয়েছেন।
এঘটনায় উখিয়া সদর বনবিট কর্মকর্তা বাদী হয়ে ৩ শতাধীক অজ্ঞাতনামা রোহিঙ্গাকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি মামলা করেছে বলে বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।
সম্প্রতি কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রোহিঙ্গা বস্তির আড়ালে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, মূলতঃ তারা ঝুঁপড়ি নির্মাণের জন্য বনভূমির পরিত্যক্ত জায়গা সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করে তুলছে। এমতাবস্থায় বনকর্মী দাবি করে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত মোটা অংকের টাকা দাবি করে। উক্ত টাকা না দেওয়াতে তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সংঘর্ষ হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা এখলাছ মিয়া, নুর হোছন জানান, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত বস্তি এলাকায় এসে বস্তির বাঁশ, গাছ কর্তন করতে থাকে। এসময় বাঁধা দিতে গেলে তারা রোহিঙ্গাদের উপর চড়াও হয়ে মারধর করে।
উখিয়া সদর বনবিট কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গাদের বাস করার জন্য ঝুঁপড়ি তৈরির জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। কতিপয় এনজিও সংস্থার ইন্ধনে রোহিঙ্গারা ওইসব চিহ্নিত জায়গার বাইরেও পাহাড় কেটে নতুন করে জায়গা দখল করে ঝুঁপড়ি নির্মাণ করছে।
কুতুপালং বস্তি ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানান, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের পাহাড় কাটা থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছে। তবে স্থানীয় কতিপয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী পাহাড় কেটে গরীব রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে টাকা আদায় করছে। এনিয়ে মইগ্যা নামের এক রোহিঙ্গার সাথে পিতা-পুত্রের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন