হবিগঞ্জের মাধবপুরে শিবজয়নগর গ্রামে পুলিশকে মারধর মামলায় আটক করা হয়েছে ৬ জনকে। এর মধ্যে ৫ জনকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ অপর আসামি পুলিশ প্রহরায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দূবৃর্ত্তদের হামলায় আহত ৮পুলিশ সদস্যের মধ্যে এএসআই মাহবুব, পুলিশ সদস্য আরিফ ও ডালিম হাতে দায়ের কোপ ও রডের আঘাত নিয়ে মাধবপুর স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন ।
পুলিশ আতঙ্কে পুরুষ শূন্য শিবজয়নগর গ্রাম ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাঘাসুড়া ইউনিয়নের শিবজয়নগর ও সাতপাড়ীয়া এলাকায় চুরি ,ডাকাতি, জুয়া, মাদকদ্রব্য বিক্রিসহ সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। ভয়ে এদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
এ চক্রের সক্রিয় সদস্য তৌহিদ মিয়া । সে একাধিক ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি। মঙ্গলবার গভীর রাতে শিবজয়নগর গ্রামের এক বাড়িতে তৌহিদকে ধরতে এস আই মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালায়। তখন অতর্কিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা । আহত হয় পুলিশসহ ৯ জন ।
পার্শবর্তী সাতপাড়ীয়া গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেছেন, এ এলাকায় সকল অপকর্মের হোতা ১২/ ১৪ জনের একটি চক্র। এদের ভয়ে সবাই তটস্থ।
বাঘাসুরা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এ এলাকার আবুল কালাম টেলিফোনে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি ।
বাঘাসুড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ জানিয়েছেন এখানে একটি দুষ্ট চক্র রয়েছে । তাদের দ্বারা সকল অপকর্ম চলছে । তাদের ভয়ে কেউ কোনো কথা বলার সহস পায়না । পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ধৃতরা একশ ভাগ খারাপ লোক । চোর, ডাকাত মাদকব্যাবসায়ীসহ উল্লেখিত ঘটনায় দায়ী ব্যাক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি ।
এ ঘটনায় এস আই মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তৌহিদকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আজ্ঞাত ৭/৮জনের বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। সাতপাড়িয়া গ্রামের তৌহিদ(২৯), মাহফুজ মিয়া(৫০), তাহের মিয়া(৩০), আলমগীর(২৬), বাবুল মিয়া(৩০)কে বুধবার কোর্টে সোপর্দ করলে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ।
ইত্তেফাক/এএন