যশোরে ভৈরব নদ পুনঃখনন কাজ শিগগির শুরু

যশোরে ভৈরব নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষে পুনঃখননের কাজ শিগগির শুরু হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ এগিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ভৈরব নদ পুনঃখনন ছাড়াও, ভৈরব নদের সংযোগ খালও পুনঃখনন করা হবে। আর ভৈরব পুনঃখনন করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবদ্ধতা দূরীকরণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় ভৈরব নদের এ সংস্কার কাজের জন্য প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ করেছে ২৭২ কোটি ৮১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এরই মধ্যে এ কাজের অর্থও বরাদ্দ হয়েছে। খুব দ্রুত এ কাজ শুরু কবার কথা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাষ্য মতে, ভৈরবের দুই পাড়ের দখল মুক্ত করা জরুরি।
 
আগামী ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পুনঃখনন কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে ওই প্রকল্পের আওতায় যশোর শহরের ঘোপ (উপশহর সংলগ্ন) বাবলাতলা ব্রিজ থেকে দড়াটানা ও নীলগঞ্জ ব্রিজ হয়ে দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার ভৈরব নদের পুনঃখনন কাজ শিগগির শুরু করার তাগাদা যশোরবাসীসহ নদী আন্দোলন কমিটির নেতাদের।
 
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, চলতি মাসে টেন্ডার আহ্বান করা হতে পারে।
 
অপরদিকে যশোরের এ ১০ কিলোমিটার ভৈরব নদের পুনঃখনন করা হলে এতদাঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে অনেকে মনে করছেন।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর ও চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি এলাকার ভৈরব নদের পুনঃখনন ও সংযোগ খালের পুনঃখননে লক্ষে একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয় ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট। ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন’ এ প্রকল্পটি প্রশাসনিক অনুমোদন পায় একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর। বলা হয়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে। কাজ শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ধরা হয়েছিল ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে। তবে নানা কারণে এখনো পর্যন্ত পুনঃখনন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে চলতি ২০১৭ সাল থেকে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ড আরো জানায়, এ প্রকল্পে যশোরের কয়েকটি স্থান রয়েছে।
 
চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর থেকে অভয়নগর উপজেলার আফ্রাঘাট পর্যন্ত ৯২ কিলোমিটার ভৈরব নদ পুনঃখনন, আফ্রাঘাট থেকে যশোরের বসুন্দিয়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার ভৈরব নদ ড্রেজিং, যশোরের দাইতলা খাল ২০ কিলোমিটার পুনঃখনন, সাড়ে চার কিলোমিটার চারটি সংযোগ খালের পুনঃখনন এবং যশোর শহরের ভৈরব নদের দুই পাশে ১০ কিলোমিটার হেরিংবন রাস্তা নির্মাণ করা।
 
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, কয়েকটি প্যাকেজের মাধ্যমে যশোর শহরের ঘোপ বাবলাতলা ব্রিজ থেকে দড়াটানা ও নীলগঞ্জ ব্রিজ হয়ে ১০ কিলোমিটার ভাটি পর্যন্ত ভৈরব নদ পুনঃখনন কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিগগির কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
 
তিনি আরো বলেন, পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে ভৈরব নদের নাব্যতা ফিরে আসবে। এছাড়া এতাদাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর হবে। বাসস
 
ইত্তেফাক/এএসএমইউ