শনিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে সিংগাইর উপজেলা জয়মণ্ডপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কিছু বখাটে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে। এ সময় প্রধান শিক্ষককে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আরেক শিক্ষককেও একইভাবে আহত করা হয়। আহত করা হয়েছে প্রধান শিক্ষকের ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র অর্ণিবান সাহাকেও।
কিছু ছাত্রীদের ইন্ধনে বখাটে ছাত্ররা এমন ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে স্কুল শিক্ষক ও এলাকার লোকজন জানান। শুধু শিক্ষকদের মারধর করেই বখাটেরা ক্ষান্ত হয়নি, তারা ভাঙচুর করেছে স্কুলের আসবাবপত্র এবং এমপি মমতাজ বেগমের ছবি। আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষক যেন ওদের বিরুদ্ধে আর কখনো বাড়াবাড়ি না করে।
এদিকে শিক্ষকদের মারধরের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে। সিংগাইর-ঢাকা সড়ক জয়মণ্ডপ বাসস্ট্যান্ডে বখাটেদের গ্রেফতার দাবিতে অবস্থান নেয়া হয়। এতে সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। সভায় আলটিমেটাম দেয়া হয়, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার না করলে কঠোর আন্দোলন নেবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বখাটেদের নাম উল্লেখ করে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
জয়মণ্ডপ উচ্চ বিদ্যালয়ের আহত প্রধান শিক্ষক রাধেশ্যাম সাহা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান জানান, তাদের নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী ক্লাসে না গিয়ে বখাটে ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দেয়। এ ব্যাপারে তাদের নিষেধ করা সত্বেও তারা তাদের পথেই চলে। যার ফলে শনিবার সকাল ১১টার দিকে অফিসে ডেকে তাদের শাসিয়ে দেয়া হয় এ ধরণের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে। তাদের বলা হয় নির্দেশ না মানলে তাদের স্কুল থেকে বের করে দেয়া হবে।
তিনি জানান, ওই মেয়েরা তাদের বখাটে বন্ধুদের কাছে বিষয়টি নিয়ে নালিশ করে। আর এতেই এলাকার সিরাজ খাঁর ছেলে লিটন, রব মিয়ার ছেলে তানজিল, লোকমান পালের ছেলে জহুরুল, তারা শিকদারের ছেলে সাগর, আলতাব মিয়ার ছেলে আনেয়ার, নাছির পালের ছেলে ফরিদ ও কোহিনুর গংরা হাতুড়ি, দা ও লাঠিসোঠা নিয়ে তার অফিসে ঢুকে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে।
এ সময় অপর শিক্ষক বাদল বিশ্বাস এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে। এরপর মারধর করা হয় নবম শ্রেণির ছাত্র অর্ণিবান সাহাকে।
সিংগাইর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শহিদুর রহমান শহিদ বলেন, মাত্র কয়েকদিন আগে আমাদের মমতাজ বেগম এমপি অস্ট্রেলিয়ান এ্যাম্বাসিডরের কাছ থেকে শিক্ষা দূত হিসেবে মনোনীত হলেন, এতে আমরা গর্বিত। অথচ তারই স্কুলে এমন ঘটনায় তার সকল উন্নয়ন এবং সুনাম বিনষ্টকারীদের তিনি কখনো ছাড় দেবেন না। এ জন্য তিনি মর্মাহত।
সিংগাইর থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এ ব্যপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষীদের গ্রেফতার করা হবে।
জয়মণ্ডপ উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মমতাজ বেগম এমপি বলেন, এটা একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমার স্কুলে এমন ঘটনা ঘটবে তা ভাবতেও পারিনি। তবে অপরাধী যারাই হোক তাদের শাস্তি পেতেই হবে। এ ব্যাপারে এলাকার সবাইকে এবং থানাকে বলেছি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে।
ইত্তেফাক/এএন/ইউবি